ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ২৮-এ ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি আমদানি কমাতে সৌরবিদ্যুতের বড় উত্থান ভারতে পলাতক আসামিদের নিয়ে দিল্লিকে ঢাকার কড়া বার্তা নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা সুরের মায়ায় সুজাতা সোম রাগসংগীত থেকে লোকগান, শৈশবের আসর পেরিয়ে সংগীত শিক্ষার বিস্তৃত ভুবনে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বৃদ্ধির প্রভাব এশিয়ান গেমস উপলক্ষে জাপান সফরে সেনাবাহিনী প্রধান ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ বিতরণে ধীরগতি  বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর চ্যালেঞ্জ নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর ২২ দিন দেশজুড়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।  বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

প্রেস সচিব বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকের কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা থাকা দরকার। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গুজব, গুঞ্জন ও অপপ্রচার মোকাবিলায় প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ভুল ও অসত্য তথ্যের বিস্তার রোধে তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সাধারণ মানুষকে তথ্যের উৎস যাচাই করে সংবাদ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বও বেড়েছে।

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলীর সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইসির কর্মকর্তারা

কৃষকের ঋণ মওকুফ

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন।

তাদের ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর পাওনা ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালনসহ কৃষি খাতে বিতরণ করা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল কৃষিঋণ এবং এর ওপর আরোপিত সুদ এ কর্মসূচির আওতায় মওকুফ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র ঋণের দায় থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষকের মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে ক্ষুদ্র কৃষকরা অনেক সময় ঋণনির্ভর হয়ে পড়েন। তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে নতুন কৃষিঋণ দেওয়া এবং বাজারব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সকল মানুষের হয়ে ওঠার কর্মসূচি

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঙ্গী করে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, ধীরে ধীরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। ‘সকল মানুষের হয়ে ওঠার’ কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারী সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি শুধু নারীর ক্ষমতায়ন নয়, এটি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও সমাজে নারীর অংশীদারিত্বও জোরদার করে।

পরিবারের নারীর হাতে নিয়মিত অর্থ পৌঁছালে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। একইভাবে কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। প্রেস সচিব বলেন, মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মর্যাদার বিষয়টি সম্পর্কে প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলীর হাতে ডিআরইউ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছে সভাপতি আবু সালে আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইসির কর্মকর্তারা

ডেঙ্গু ও হাম নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য নাগরিকদের আন্তরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। টিকাদান কর্মসূচি এবং দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, গত পাঁচ বছরের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, হাম নতুন কোনো সমস্যা নয়। ২০২৪ সালের আগস্টের পরও হামের টিকা কার্যক্রম জোরদারে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।

তিনি জানান, নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা তরুণ প্রতিনিধিদের নিয়ে দিনব্যাপী পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির বার্তা নিয়ে তরুণ প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা মালিকপক্ষের রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও অর্থবহ হয়ে উঠবে না।

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস এ এ এম লেহ শিবলী, সভাপতি আবু সালে আকন , সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল ও সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ অংশগ্রহণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করে সরকার দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

ডিআরইউর মিট দ্য রিপোর্টার্স

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজের পুরোনো সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ডিআরইউ রিপোর্টারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু করে। সে সময় তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাত ধরেই জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক ও নৈতিক নিরাপত্তা নেই। অনেক সাংবাদিককে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হয়। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের একটি আইনি ভিত্তি ও কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশবাসী আরও বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য ডেডিকেটেড স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য তেমন কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ সুবিধা নেই। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকার করা হলেও সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে। অন্যান্য পেশার মানুষের মতো সাংবাদিকদেরও কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে তাদের মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।  বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

প্রেস সচিব বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকের কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা থাকা দরকার। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গুজব, গুঞ্জন ও অপপ্রচার মোকাবিলায় প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ভুল ও অসত্য তথ্যের বিস্তার রোধে তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সাধারণ মানুষকে তথ্যের উৎস যাচাই করে সংবাদ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বও বেড়েছে।

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলীর সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইসির কর্মকর্তারা

কৃষকের ঋণ মওকুফ

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন।

তাদের ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর পাওনা ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করেছে। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালনসহ কৃষি খাতে বিতরণ করা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল কৃষিঋণ এবং এর ওপর আরোপিত সুদ এ কর্মসূচির আওতায় মওকুফ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র ঋণের দায় থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষকের মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে ক্ষুদ্র কৃষকরা অনেক সময় ঋণনির্ভর হয়ে পড়েন। তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে নতুন কৃষিঋণ দেওয়া এবং বাজারব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সকল মানুষের হয়ে ওঠার কর্মসূচি

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঙ্গী করে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, ধীরে ধীরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। ‘সকল মানুষের হয়ে ওঠার’ কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারী সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি শুধু নারীর ক্ষমতায়ন নয়, এটি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও সমাজে নারীর অংশীদারিত্বও জোরদার করে।

পরিবারের নারীর হাতে নিয়মিত অর্থ পৌঁছালে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। একইভাবে কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। প্রেস সচিব বলেন, মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মর্যাদার বিষয়টি সম্পর্কে প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলীর হাতে ডিআরইউ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছে সভাপতি আবু সালে আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইসির কর্মকর্তারা

ডেঙ্গু ও হাম নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য নাগরিকদের আন্তরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। টিকাদান কর্মসূচি এবং দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, গত পাঁচ বছরের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, হাম নতুন কোনো সমস্যা নয়। ২০২৪ সালের আগস্টের পরও হামের টিকা কার্যক্রম জোরদারে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।

তিনি জানান, নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা তরুণ প্রতিনিধিদের নিয়ে দিনব্যাপী পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির বার্তা নিয়ে তরুণ প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা মালিকপক্ষের রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও অর্থবহ হয়ে উঠবে না।

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস এ এ এম লেহ শিবলী, সভাপতি আবু সালে আকন , সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল ও সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ অংশগ্রহণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করে সরকার দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

ডিআরইউর মিট দ্য রিপোর্টার্স

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজের পুরোনো সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ডিআরইউ রিপোর্টারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু করে। সে সময় তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাত ধরেই জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক ও নৈতিক নিরাপত্তা নেই। অনেক সাংবাদিককে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হয়। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের একটি আইনি ভিত্তি ও কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশবাসী আরও বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য ডেডিকেটেড স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য তেমন কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ সুবিধা নেই। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকার করা হলেও সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে। অন্যান্য পেশার মানুষের মতো সাংবাদিকদেরও কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে তাদের মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।