দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা
- আপডেট সময় : ০৫:২১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ঐতিহাসিক বন্ধন, অভিন্ন স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ–ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক নৈকট্য এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। তিনি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশেষ গুরুত্ব পায় অভিন্ন নদ–নদীর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও নদী অববাহিকায় বসবাসকারী কোটি মানুষের জীবন–জীবিকার সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি সরাসরি জড়িত।
গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তাঁর সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ভারত আন্তরিকভাবে আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের কাছে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক মর্যাদা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সম্মানজনক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে।
উভয় পক্ষ মনে করেন, জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া সম্ভব।

এর আগে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে রেলপথ, নৌপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ জোরদারে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, পারস্পরিক আস্থা, ন্যায্যতা ও জনগণের স্বার্থকে ভিত্তি করে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।
একই সঙ্গে পানি, বাণিজ্য ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বকে আরও স্থিতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করার সুযোগ তৈরি করবে।

















