খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১০:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত জয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম খুব দ্রুত কমে আসবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য প্রথমে গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারে নেমে আসবে এবং পরে তা আরও কমে ২ ডলারের নিচে চলে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তেলের দাম কমার বিষয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই দরপতন খুব দ্রুত ঘটবে। একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৯২ ডলারের বেশি ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে, এমন আশঙ্কাই বর্তমানে বাজারে দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রকাশের পর। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। কাতারও সতর্ক করেছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের শিল্প ও সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। আল জাজিরার হিসাবে, গত ছয় মাসে মার্কিন পরিবারগুলো অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি ব্যয় করেছে। এ সময়ে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ২.৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪.১৫ ডলারে উঠেছে। ডিজেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের পর জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারে নামবে এবং পরে তা ২ ডলারের নিচেও চলে যেতে পারে।
তবে তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য শুধু সামরিক বিজয় বা পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে না। সরবরাহ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, উৎপাদন, মজুত, বৈশ্বিক চাহিদা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সবকিছু মিলেই বাজারের গতিপথ নির্ধারিত হবে। বর্তমানে হরমুজ দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা অব্যাহত থাকায় বাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী চাপ রয়েছে।
ফলে ট্রাম্পের পূর্বাভাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল কত দ্রুত ফিরছে তার ওপর। সংঘাত দ্রুত শেষ হয়ে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে তেলের দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন হামলা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র আল-জাজিরা

















