বিরোধীদলকে রিজভী গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কর্মসূচির পাশাপাশি বিকল্প পরিকল্পনা দিন
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আন্দোলন ও কর্মসূচির পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বাস্তবসম্মত বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ।
তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সংকট থেকে উত্তরণে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, কোথা থেকে জ্বালানি পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সেই পরিকল্পনাও তুলে ধরা উচিত।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী আহমেদ বলেন, বিরোধী দলগুলো কর্মসূচি দেবে, সরকারের সমালোচনা করবে, এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা। তবে শুধু প্রতিবাদ ও সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংকট সমাধানে কার্যকর বিকল্প প্রস্তাবও দিতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন, ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা বিকল্প বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব। একটা পরিকল্পনা দিন, কী কী কাজ করলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
রিজভী বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। তারা সংসদের বাইরেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে পারেন। কিন্তু সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। সংকটকে রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে না নিয়ে কীভাবে তা নিবারণ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি পরিস্থিতিকে আরও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এটা সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়েছে, তা তো নয়। এখন বৈশ্বিক যুদ্ধ চলছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ করছে, এর দায় কি বাংলাদেশের সরকারের? তা তো নয়।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সংকটকে প্রভাবিত করলেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে, এমন একটি বার্তা উঠে আসে তার বক্তব্যে। সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে অপচয় ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কমানোও জরুরি।
রিজভী আহমেদের বক্তব্যে মূলত রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাই সামনে এসেছে। বিরোধী দলগুলো যদি সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান প্রস্তাব করে, তাহলে জ্বালানি সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও কার্যকর ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক হতে পারে।
এদিকে অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, গান ও নৃত্য মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করে আন্দোলনের স্রোতকে আরও শক্তিশালী করেছিল। ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের সময় মানুষের মধ্যে এক ধরনের সাহস ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের ইতিবাচক দিকগুলো ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐতিহ্যের নামে প্রচলিত অমানবিক ও বৈষম্যমূলক প্রথাগুলো পরিহার করতে হবে। সমাজে সংস্কৃতির ইতিবাচক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমদ উজ্জ্বল, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি যখন দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, তখন রিজভীর এই আহ্বান রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সংকট সমাধানে শুধু সরকারের পদক্ষেপ নয়, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর বিকল্প পরিকল্পনা আসা প্রয়োজন, এমন প্রত্যাশাই এখন সামনে এসেছে।


















