ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

রাজপথ নয় সংসদেই হোক রাজনৈতিক লড়াই: তথ্যমন্ত্রী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আমাদের সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে জাতির সামনে আবারও শপথ করছি-যে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, যে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি, সেই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বুধবার (৫ আগস্ট) বরিশাল নগরের আমতলা মোড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশ আজ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, মানবাধিকারসমৃদ্ধ এবং সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে পরিণত করতে পারিনি।

তিনি বলেন, এ কারণেই আমরা দেখেছি, ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে রেখেছিল।

ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সংসদকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল এবং আইনসভাকে হাস্যকর অবস্থায় পরিণত করা হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেই পরিস্থিতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিলাম।

আমরা গর্বিত যে, সেই আন্দোলনের শুরুতে যারা শিশু ও কিশোর ছিল, তারা পরবর্তী সময়ে সাহসী তরুণ যোদ্ধায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তখন আবু সাঈদ ছিল শিশু। কিন্তু দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরিবেশে সে একজন সাহসী ও গণতন্ত্রকামী তরুণে পরিণত হয়। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার আগেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কাঠামোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন-‘ফয়সালা হবে কোন পথে? ফয়সালা হবে রাজপথে।’ শেষ পর্যন্ত রাজপথেই ফ্যাসিবাদের পরাজয় হয়েছে। সেই বিজয়ের ধারাবাহিকতায় আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অধিকার অর্জন করেছি এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদ একটি কার্যকর সংসদে পরিণত হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব গণতান্ত্রিক শক্তি এই বিজয়কে ধারণ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা সংসদের বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, যারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পার্লামেন্টের বদলে রাজপথে নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন, তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারছেন না। যারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন, তারাও ভুল করছেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে আমি সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানাই যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি এবং যে ঐক্যের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে সংসদ পেয়েছি, আসুন সেই সংসদকেই রাজনীতির একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করি। এর ব্যত্যয় জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব। এর বিকল্প কোনো পথ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত দল এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত দল এ লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ।

আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজপথ নয় সংসদেই হোক রাজনৈতিক লড়াই: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আমাদের সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে জাতির সামনে আবারও শপথ করছি-যে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, যে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি, সেই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বুধবার (৫ আগস্ট) বরিশাল নগরের আমতলা মোড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশ আজ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, মানবাধিকারসমৃদ্ধ এবং সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে পরিণত করতে পারিনি।

তিনি বলেন, এ কারণেই আমরা দেখেছি, ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে রেখেছিল।

ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সংসদকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল এবং আইনসভাকে হাস্যকর অবস্থায় পরিণত করা হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেই পরিস্থিতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিলাম।

আমরা গর্বিত যে, সেই আন্দোলনের শুরুতে যারা শিশু ও কিশোর ছিল, তারা পরবর্তী সময়ে সাহসী তরুণ যোদ্ধায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তখন আবু সাঈদ ছিল শিশু। কিন্তু দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরিবেশে সে একজন সাহসী ও গণতন্ত্রকামী তরুণে পরিণত হয়। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার আগেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কাঠামোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন-‘ফয়সালা হবে কোন পথে? ফয়সালা হবে রাজপথে।’ শেষ পর্যন্ত রাজপথেই ফ্যাসিবাদের পরাজয় হয়েছে। সেই বিজয়ের ধারাবাহিকতায় আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অধিকার অর্জন করেছি এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদ একটি কার্যকর সংসদে পরিণত হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব গণতান্ত্রিক শক্তি এই বিজয়কে ধারণ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা সংসদের বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, যারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পার্লামেন্টের বদলে রাজপথে নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন, তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারছেন না। যারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন, তারাও ভুল করছেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে আমি সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানাই যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি এবং যে ঐক্যের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে সংসদ পেয়েছি, আসুন সেই সংসদকেই রাজনীতির একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করি। এর ব্যত্যয় জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব। এর বিকল্প কোনো পথ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত দল এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত দল এ লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ।

আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে।