কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর, যিনি এস কে সুর চৌধুরী নামে পরিচিত, সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল না করার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার আগে সকালে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হলে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর তিন বছরের সাজা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এস কে সুর। তিনি আদালতে বলেন, তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা? এরপর আদালত সাজা পরোয়ানা জারি করলে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ১৫ জুলাই মামলার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য এদিন নির্ধারণ করেছিলেন। যুক্তিতর্কে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ আসামির সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার তার মক্কেলের খালাস দাবি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এস কে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্যসহ সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করা হয়।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ এবং নির্ধারিত ফরম গ্রহণ করেন। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেননি।
এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত বছরের ৬ নভেম্বর আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
বিচার চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।










