ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশুহত্যার অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে ঘিরে আদিতমারীতে রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০ ইরান-মার্কিন চুক্তি আলোচনায় তিন হাজার কোটি ডলার রাজশাহীর আম ও কালাইরুটি স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন অতিথি   বেনজীরকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানো প্রক্রিয়া চলছে: উপদেষ্টা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারল্য  সকট মোকাবিলায় ২,৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক  অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হত্যার অভিযোগে স্বামী কারাগারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ছবি বাসস

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি শিল্পাঞ্চলটিতে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের নকশায় পরিবেশগত সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে। শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি, রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প পর্যালোচনার সময় শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আধুনিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন, যাতে শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। একইসঙ্গে একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন এবং শোধিত পানি পুনঃব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশনাও দেন।

এছাড়া শিল্পাঞ্চলের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌর প্যানেল স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদনের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ খাতে একটি মাইলফলক প্রকল্প হতে যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়গুলো চূড়ান্ত প্রকল্প পরিকল্পনায় বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সবুজ ও আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৮:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি শিল্পাঞ্চলটিতে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের নকশায় পরিবেশগত সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে। শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি, রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প পর্যালোচনার সময় শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আধুনিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন, যাতে শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। একইসঙ্গে একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন এবং শোধিত পানি পুনঃব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশনাও দেন।

এছাড়া শিল্পাঞ্চলের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌর প্যানেল স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদনের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ খাতে একটি মাইলফলক প্রকল্প হতে যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়গুলো চূড়ান্ত প্রকল্প পরিকল্পনায় বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সবুজ ও আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।