২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের
- আপডেট সময় : ১০:২৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
শনিবার (১৩ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, শান্তিচুক্তির বিষয়ে পক্ষগুলো এখন সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তান ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে (ই-সাইনিং) চুক্তি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে বলে দাবি করলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক জটিলতায় তা এতদিন বাস্তবায়িত হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (MoU) সইয়ের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ এর আগে কখনো এতটা অগ্রসর হয়নি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই শান্তি আলোচনার মূল পর্বগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। শনিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে কয়েকটি আত্মঘাতী ড্রোন ছুড়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনী সেগুলো আকাশেই ভূপাতিত করেছে। বর্তমানে ওই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ চলাকালে ইরান এই জলপথে কড়াকড়ি আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা চালায়।
চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেও কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত শর্তগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত সমঝোতার মিল নেই। অন্যদিকে আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, খসড়া চুক্তিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের ভেতরেই লঘু করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিটি অনলাইনে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সুইজারল্যান্ড তাদের ভূখণ্ডে সরাসরি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।


















