বিদ্যুৎ ঘাটতি : সন্ধ্যায় ফের বন্ধ হচ্ছে শপিংমল-দোকানপাট
- আপডেট সময় : ১০:১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিপরীতে চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে থাকায় ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বা তারও বেশি। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, আবহাওয়া, মৌসুম ও অন্যান্য নানা বিষয়ের ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্ভর করে। সরকারের আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সব সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে না। তার মতে, চাহিদা পূরণে এসব কেন্দ্র বেশি চালাতে হলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ ঘাটতি সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। তার ধারণা, বর্তমানে ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ উৎপাদনের তথ্য দিয়ে সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যায় না।
তবে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে রাত ৯টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড গড়ে। ওই সময়ে মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হয় ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট, ফলে ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। তবে একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পদক্ষেপ এবং অন্যদিকে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি—দুই বিষয়ই বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। একই সময়ের মধ্যে সব ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জাও বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করেছিল। তখন অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। বিয়ে ও বিভিন্ন উৎসবে আলোকসজ্জাও সীমিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে নতুন যানবাহন ও কম্পিউটার কেনায় নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য গত ১০ মে দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে সেই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবার আগের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এমন পদক্ষেপ নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে একই পথে হাঁটছে। সূত্র বিবিসি









