ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চামড়া: অর্থনীতিতে আয়ের উৎস, সেই মূল্যবান সম্পদের এমন অর্থহীন পরিণতি! সড়ক নয়, যেন মৃত্যুর উপত্যকা! লোবানের গন্ধে ফিকে ঈদের আনন্দ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে  উল্লেখযোগ্য পতন, কেন? ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, থাকছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী  চামড়া সংগ্রহকারীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের নজর থাকবে : বাণিজ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: অবহেলা, শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ নাকি অন্য কিছু প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষ

টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু, নিভে গেল অনেক স্বপ্ন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু, নিভে গেল অনেক স্বপ্ন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামেরই সাতজন। সেই গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে হকারি করতেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।

যাতায়াতের খরচ বাঁচাতে তারা রডবোঝাই ট্রাকটিতে ওঠেছিলেন। সেখানে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের আরও কয়েকজন ছিলেন। ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সাতজনসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। বাকি তিনজন পাকুড়িয়া ও মশিদপুর গ্রামের।

নিহতরা হলো, রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক হোসেন (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮) মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫)।

স্বজনরা বলছেন, নিহত সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। তারা সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। কেউ কেউ নারীদের চুল ও পুরনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও করতেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। আহতরা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত ও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মাধ্যমে খুব সকালে সাতজনের মৃত্যুর খবর রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে পৌঁছে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারে শুরু হয় আহাজারি।

আশপাশের গ্রামের লোকজন ও প্রতিবেশীরা নিহতদের বাড়িতে ছুটে আসেন। তারা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একসঙ্গে গ্রামের সাতজনকে হারিয়ে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ফিরোজ হোসেন বলেন, বেগমগঞ্জের উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এই এলাকার শতাধিক যুবক বছরজুড়ে হকারি ও নানা পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়।

অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন। নিহতরাও একইভাবে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাদের প্রাণ গেল।

দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে স্বজনেরাও কান্না থামাতে পারছেন না।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, আমরা নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের খোঁজ-খবর রাখছি। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মরদেহ দাফনসহ নিহতদের পরিবারকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেন ইউএনও।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো বাড়িতে আসতে একটু সময় লাগতে পারে।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তারা নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন। ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

এতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ স্বামী, আবার কেউ সন্তান।

এরমধ্যে একজন মান্দার রাজেন্দ্রবাটির তারেক হোসেন (২১) ঈদের পরই বিয়ের আয়োজন চলছিলো। বাড়ি মেরামত থেকে শুরু করে বিয়ে আয়োজনটা প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিলো। কিন্তু টগবগে সেই তরুণের স্বপ্ন নিভে গেলো টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্টনায়।

ভাতিজা তারেকের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফুফু খাদিজা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরই তারেকের বিয়ের কথা চলছিল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। সেই ছেলে আজ লাশ হয়ে ফিরবে!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু, নিভে গেল অনেক স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামেরই সাতজন। সেই গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে হকারি করতেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।

যাতায়াতের খরচ বাঁচাতে তারা রডবোঝাই ট্রাকটিতে ওঠেছিলেন। সেখানে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের আরও কয়েকজন ছিলেন। ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সাতজনসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। বাকি তিনজন পাকুড়িয়া ও মশিদপুর গ্রামের।

নিহতরা হলো, রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক হোসেন (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮) মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫)।

স্বজনরা বলছেন, নিহত সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। তারা সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। কেউ কেউ নারীদের চুল ও পুরনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও করতেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। আহতরা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত ও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মাধ্যমে খুব সকালে সাতজনের মৃত্যুর খবর রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে পৌঁছে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারে শুরু হয় আহাজারি।

আশপাশের গ্রামের লোকজন ও প্রতিবেশীরা নিহতদের বাড়িতে ছুটে আসেন। তারা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একসঙ্গে গ্রামের সাতজনকে হারিয়ে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ফিরোজ হোসেন বলেন, বেগমগঞ্জের উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এই এলাকার শতাধিক যুবক বছরজুড়ে হকারি ও নানা পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়।

অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন। নিহতরাও একইভাবে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাদের প্রাণ গেল।

দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে স্বজনেরাও কান্না থামাতে পারছেন না।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, আমরা নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের খোঁজ-খবর রাখছি। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মরদেহ দাফনসহ নিহতদের পরিবারকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেন ইউএনও।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো বাড়িতে আসতে একটু সময় লাগতে পারে।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তারা নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন। ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

এতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ স্বামী, আবার কেউ সন্তান।

এরমধ্যে একজন মান্দার রাজেন্দ্রবাটির তারেক হোসেন (২১) ঈদের পরই বিয়ের আয়োজন চলছিলো। বাড়ি মেরামত থেকে শুরু করে বিয়ে আয়োজনটা প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিলো। কিন্তু টগবগে সেই তরুণের স্বপ্ন নিভে গেলো টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্টনায়।

ভাতিজা তারেকের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফুফু খাদিজা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরই তারেকের বিয়ের কথা চলছিল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। সেই ছেলে আজ লাশ হয়ে ফিরবে!