মিরপুরের শিশু হত্যা মামলায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৮:১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বিকেলে নজরুল একাডেমি মাঠেছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে
নজরুল জন্মজয়ন্তীর মঞ্চে কঠোর বার্তা, ত্রিশালে খাল পুনঃখননের উদ্বোধনও করলেন তারেক রহমান
ঢাকার মিরপুরে আলোচিত শিশু হত্যা মামলার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
শনিবার বিকেলে নজরুল একাডেমি মাঠ-এ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সংস্কৃতিজন, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের মানবিক মূল্যবোধের ভয়াবহ অবক্ষয়ের প্রমাণ মিলেছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। শিশুটির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে এবং সেই শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।”
তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন।
নজরুলের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুল কেবল একজন কবি নন, তিনি বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও দর্শনকে বিশ্বদরবারে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তাঁর জীবনবোধ ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, তা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে আহ্বান জানাব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিশালের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর, কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী এবং মো. লতিফুল ইসলাম।

ধরার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন
এর আগে দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে খালটি প্রথম খনন করেছিলেন। প্রায় ৪৭ বছর পর সেই খালের পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুপুর ২টা ২১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী খালপাড়ে পৌঁছে পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। “রাস্তা অবরোধ, যানবাহনে আগুন, উত্তেজনা সৃষ্টি—এসব কর্মকাণ্ড কি আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে না?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন অনেকেই মাঠে ছিলেন না, কিন্তু এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ায় একটি পক্ষ তা মেনে নিতে পারছে না বলেই তারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
অরাজকতা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ
দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ—এমন সতর্কবার্তাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে, খাল পুনঃখননের মতো প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে, কৃষক কার্ড কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানও ব্যাহত হতে পারে। এসবের ভুক্তভোগী হবে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।”
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও ব্যাগ বিতরণের ঘোষণা
সরকারের সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্ম ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব বিতরণ শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে গ্রামের ছোট ছোট শিশুদের নতুন পোশাক ও স্কুলব্যাগ দেব। সেই কাজ এখন বাস্তবায়নের পথে।”
কৃষকদের জন্য আশার বার্তা
ধরার খাল পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, খালটি পুনরায় সচল হলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, সমগ্র ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল রয়েছে, যেগুলো খনন বা পুনঃখনন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।














