ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আসিফের হুঁশিয়ারি: আপনারা ভায়োলেন্স বেছে নিলে, আমরাও বাধ্য হব কোরবানির পশুতে স্বস্তি, বাড়ছে খামারিদের খরচের চাপ ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি টাকার ভুয়া চালান জমা, জামিনে মুক্ত আসামি জাস্টিস ফর রামিসা: বিচারের  দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ বিএনপির জবাবদিহিতা জনগণের কাছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নয় : রুমিন ফারহানা হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে যাওয়া মারাত্মক নজির সৃষ্টি করবে : আনোয়ার গারগাশ ইলন মাস্ককে ঘিরে চীনা ‘ছদ্মবেশী’ নারী জেনারেল বিতর্ক, আতিথেয়তার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ, মৃত্যু ৪৯৯, ঢাকায় সর্বোচ্চ ২১০ তৈরি হচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’, বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত মাংস রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি টাকার ভুয়া চালান জমা, জামিনে মুক্ত আসামি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি টাকার ভুয়া চালান জমা, জামিনে মুক্ত আসামি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে এক কোটি টাকার ভুয়া চালান তৈরি করে আদালতে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই চালান দেখিয়েই একটি মামলার আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে অনলাইনে যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আরিফুল ইসলামের আদালতে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের একটি মামলায় আসামি মো. মনির হোসেন আপিলের শর্তে জামিন চান। আদালত তাকে চেকের অঙ্কের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি টাকা আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে জামিনের অনুমতি দেন।

মামলার আসামি মো. মনির হোসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নোয়াপাড়া (মেম্বার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা এবং আলী আজমের ছেলে। মামলার নথিতে তাকে মেসার্স সখিনা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকসের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী প্রতিষ্ঠান এগ্রোটেকস ফিডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণিতে অবস্থিত। বাদীপক্ষের দাবি, মনির হোসেনের কাছে তাদের দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ দাবিতে ২০১৮ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করা হয়। পরে ২০১৯ সালে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ ছয় বছর বিচার শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই আদালত মনির হোসেনকে দুই কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং এক বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি জামিন আবেদন করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হালিম আদালতের অনুমতি নিয়ে চালান ফরম সংগ্রহ করেন। পরে এক কোটি টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে সোনালী ব্যাংকের ডিসি হল শাখার সিল ও ব্যাংকারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চালান আদালতে জমা দেওয়া হয়। ওই চালান দেখিয়েই আসামি জামিন লাভ করেন এবং আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

তবে বিকেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব শাখা অনলাইনে চালানটি যাচাই করতে গিয়ে সেটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। পরে সোনালী ব্যাংকের ডিসি হল শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই দিন তাদের শাখায় এক কোটি টাকার কোনো চালান জমা হয়নি। তখনই বিষয়টি জালিয়াতি হিসেবে সন্দেহ করা হয়।

এ ঘটনায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আসামিসহ শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চালানটি অনলাইনে না পাওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো টাকা জমা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে চালানটি আসামিপক্ষকে দিয়েছিলাম। তারাই ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে চালান আমাকে ফেরত দেয়। এখন ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আসামিসহ ২৩ মে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ঘটনাটি আদালত অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালতে ভুয়া চালান ও জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে জামিন নেওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগ ও ব্যাংকিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি টাকার ভুয়া চালান জমা, জামিনে মুক্ত আসামি

আপডেট সময় : ০৯:০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে এক কোটি টাকার ভুয়া চালান তৈরি করে আদালতে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই চালান দেখিয়েই একটি মামলার আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে অনলাইনে যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আরিফুল ইসলামের আদালতে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের একটি মামলায় আসামি মো. মনির হোসেন আপিলের শর্তে জামিন চান। আদালত তাকে চেকের অঙ্কের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি টাকা আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে জামিনের অনুমতি দেন।

মামলার আসামি মো. মনির হোসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নোয়াপাড়া (মেম্বার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা এবং আলী আজমের ছেলে। মামলার নথিতে তাকে মেসার্স সখিনা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকসের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী প্রতিষ্ঠান এগ্রোটেকস ফিডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণিতে অবস্থিত। বাদীপক্ষের দাবি, মনির হোসেনের কাছে তাদের দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ দাবিতে ২০১৮ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করা হয়। পরে ২০১৯ সালে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ ছয় বছর বিচার শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই আদালত মনির হোসেনকে দুই কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং এক বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি জামিন আবেদন করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হালিম আদালতের অনুমতি নিয়ে চালান ফরম সংগ্রহ করেন। পরে এক কোটি টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে সোনালী ব্যাংকের ডিসি হল শাখার সিল ও ব্যাংকারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চালান আদালতে জমা দেওয়া হয়। ওই চালান দেখিয়েই আসামি জামিন লাভ করেন এবং আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

তবে বিকেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব শাখা অনলাইনে চালানটি যাচাই করতে গিয়ে সেটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। পরে সোনালী ব্যাংকের ডিসি হল শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই দিন তাদের শাখায় এক কোটি টাকার কোনো চালান জমা হয়নি। তখনই বিষয়টি জালিয়াতি হিসেবে সন্দেহ করা হয়।

এ ঘটনায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আসামিসহ শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চালানটি অনলাইনে না পাওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো টাকা জমা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে চালানটি আসামিপক্ষকে দিয়েছিলাম। তারাই ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে চালান আমাকে ফেরত দেয়। এখন ব্যাংকারের সিল-স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আসামিসহ ২৩ মে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ঘটনাটি আদালত অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালতে ভুয়া চালান ও জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে জামিন নেওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগ ও ব্যাংকিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।