ফারাক্কা ইস্যুর সমাধানেই বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বা ‘ফারাক্কা চুক্তি’ কীভাবে বাস্তবায়িত ও নবায়ন হবে, তার ওপরই মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন ও বাস্তবসম্মত সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা ইস্যু শুধু একটি পানি বণ্টনের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি, নদীপ্রবাহ, অর্থনীতি এবং সার্বভৌম অধিকারের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় ভারতকে দায়িত্বশীল আচরণ করে দ্রুত কার্যকর চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই যেকোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা করা হবে।
বিএনপি মহাসচিব সরকারের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, দেশের পানি সংকট, নদীভাঙন এবং কৃষি উৎপাদন রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে সব রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, পানি ও পরিবেশ সংকটের পাশাপাশি উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার রোধে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্বও সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দিচ্ছে।
তবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা কারও সঙ্গে সংঘাত চাই না, কিন্তু দাসত্বও মেনে নেব না।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
বক্তারা সবাই ফারাক্কা চুক্তির ন্যায্য সমাধান, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফারাক্কা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয়। গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত ভারসাম্য, কৃষি উৎপাদন এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যু নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


















