স্বামীকে হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলেন আসমা
- আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করেন শরীয়তপুরের আসমা আক্তার।
স্বামী ফোনে অন্য মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তা সহ্য করতে না পেরে এর প্রিতিবাদ করতেন আসমা। এনিয়ে কিছু বলতে গেলে প্রায়ই মারধরের শিকার হতেন এই গৃহবধূ।
স্বামীর পরকীয়া কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রড দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করেন। তাতেই মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার।
ঘটনার পর ছোরা দিয়ে স্বামীর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন। স্বামীকে হত্যার অভিযোগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর পৌর এলাকার পালং উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে আসমা আক্তারকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করে এসব কথা বলেন শরীয়তপুরের আসমা আক্তার। তার স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।
উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন।
এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করে একটি ড্রামে ভরে প্রায় তিন দিন বাসায় রেখে দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চেয়েছিলেন আসমা। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে আসমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়েছিল। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


















