এক কোটির বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত আমদানির প্রয়োজন নেই: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে কোরবানির পশু নিয়ে কোনো ধরনের সংকট থাকবে না, এমন আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় পশুর প্রাপ্যতা বেশি হওয়ায় এ বছর বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি, এবং অন্যান্য প্রজাতি, যেমন উট ও দুম্বা মোট ৫ হাজার ৬৫৫টি।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সেই হিসেবে এ বছর দেশে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাজারে স্বস্তি এনে দেবে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে সীমান্তপথে অবৈধভাবে পশু প্রবেশের কারণে দেশীয় খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এ বাস্তবতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর হাটের ইজারা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি, যাতে দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
এবার সারা দেশে ৩,৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। প্রতিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি টিম মোতায়েন থাকবে, যারা অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে, যাতে বাজার ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল থাকে। পশু পরিবহনের সময় ব্যবসায়ীরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তরুণ খামারিদের মধ্যে অনলাইনে পশু বিক্রির প্রবণতা বাড়ায় এ খাতে কোনো ধরনের খাজনা বা হাসিল আরোপ করা হবে না। ফলে ছোট খামারিরা সহজেই তাদের পশু বাজারজাত করতে পারবেন।
প্রতি বছর কোরবানির সময় চামড়া সংগ্রহ একটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে অনভিজ্ঞতার কারণে অনেক সময় চামড়া নষ্ট হয়। এ সমস্যা মোকাবেলায় এ বছর কসাইদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে।
গত ঈদুল আজহা–র অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সম্ভাব্য পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি, যার মধ্যে জবাই হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি। ফলে প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থেকে যায়। এতে প্রমাণিত হয়, দেশে কোরবানির পশুর সরবরাহ সাধারণত চাহিদার তুলনায় বেশি থাকে।
সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা এবং খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করা হচ্ছে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই; বরং উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, হাট ব্যবস্থাপনা ও অনলাইন বিক্রির নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে কোরবানির বাজার আরও স্থিতিশীল ও খামারিবান্ধব হবে, এমনটাই আশা করছে সরকার।















