ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা আট মাস পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয় ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্যতা ভুল নয়, অপরাধ ফ্রি স্টাইল যান চলাচলের দিন শেষ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ডিএমপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন আরও ১৭ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে রামপাল কয়লার ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড  নাসিরনগরে উজানের ঢল: তলিয়েছে ৩০০ হেক্টর ধান, দিশেহারা কৃষক এক কোটির বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত আমদানির প্রয়োজন নেই: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় পিকআপ-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮  নির্মাণ শ্রমিক নিহত বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই: প্রধানমন্ত্রী

টানা আট মাস পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

টানা আট মাস পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা আট মাস পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর হালনাগাদ তথ্যে জানা যায়, এপ্রিল মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই মাসে আয় ছিল ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এই প্রবৃদ্ধির ফলে গত বছরের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা পতনের ধারা আপাতত থেমেছে।

তবে সামগ্রিক চিত্র এখনো পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪০.২১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ শতাংশের বেশি কম।

বরাবরের মতোই রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এপ্রিলের মোট আয়ের মধ্যে প্রায় ৩১৪ কোটি ডলার এসেছে এই খাত থেকে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৮.৩২ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে।

এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে আয়: ১৭০ কোটি ডলার (প্রবৃদ্ধি ৩০.০২%) , ওভেন পোশাক থেকে আয়: ১৪২ কোটি ডলার (প্রবৃদ্ধি ৩২.৬৫%)।  অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০.৫১ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে।

রপ্তানিকারকদের মতে, এপ্রিল মাসে প্রবৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে, ১. এটি পোশাক রপ্তানির ভরা মৌসুম হওয়ায় ক্রয়াদেশ বেশি ছিল। ২. আগের বছরের এপ্রিল মাসে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি কম হয়েছিল, ফলে এ বছরের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

তবে এই ইতিবাচক ধারা টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মে মাসে প্রায় ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক চাপও রপ্তানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু পোশাক নয়, এপ্রিল মাসে অন্যান্য খাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে:

  • কৃষিপণ্য: প্রবৃদ্ধি ৬৫.৬৬%
  • চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: প্রবৃদ্ধি ৩৫.৬৭%
  • ওষুধ: প্রবৃদ্ধি ১০০.৬৭%
  • পাট ও পাটজাত পণ্য: প্রবৃদ্ধি ৪৩.৫৮%
  • হোম টেক্সটাইল: প্রবৃদ্ধি ৪৮.৬১%

সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্বস্তির বার্তা দিলেও, পুরো অর্থবছরের নেতিবাচক ধারা এখনো কাটেনি। টেকসই উন্নতির জন্য ধারাবাহিক রপ্তানি বৃদ্ধি, বাজার স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

টানা আট মাস পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

টানা আট মাস পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর হালনাগাদ তথ্যে জানা যায়, এপ্রিল মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই মাসে আয় ছিল ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এই প্রবৃদ্ধির ফলে গত বছরের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা পতনের ধারা আপাতত থেমেছে।

তবে সামগ্রিক চিত্র এখনো পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪০.২১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ শতাংশের বেশি কম।

বরাবরের মতোই রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এপ্রিলের মোট আয়ের মধ্যে প্রায় ৩১৪ কোটি ডলার এসেছে এই খাত থেকে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৮.৩২ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে।

এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে আয়: ১৭০ কোটি ডলার (প্রবৃদ্ধি ৩০.০২%) , ওভেন পোশাক থেকে আয়: ১৪২ কোটি ডলার (প্রবৃদ্ধি ৩২.৬৫%)।  অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০.৫১ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে।

রপ্তানিকারকদের মতে, এপ্রিল মাসে প্রবৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে, ১. এটি পোশাক রপ্তানির ভরা মৌসুম হওয়ায় ক্রয়াদেশ বেশি ছিল। ২. আগের বছরের এপ্রিল মাসে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি কম হয়েছিল, ফলে এ বছরের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

তবে এই ইতিবাচক ধারা টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মে মাসে প্রায় ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক চাপও রপ্তানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু পোশাক নয়, এপ্রিল মাসে অন্যান্য খাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে:

  • কৃষিপণ্য: প্রবৃদ্ধি ৬৫.৬৬%
  • চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: প্রবৃদ্ধি ৩৫.৬৭%
  • ওষুধ: প্রবৃদ্ধি ১০০.৬৭%
  • পাট ও পাটজাত পণ্য: প্রবৃদ্ধি ৪৩.৫৮%
  • হোম টেক্সটাইল: প্রবৃদ্ধি ৪৮.৬১%

সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্বস্তির বার্তা দিলেও, পুরো অর্থবছরের নেতিবাচক ধারা এখনো কাটেনি। টেকসই উন্নতির জন্য ধারাবাহিক রপ্তানি বৃদ্ধি, বাজার স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।