ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় পিকআপ-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮  নির্মাণ শ্রমিক নিহত বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই: প্রধানমন্ত্রী উজানের ঢলে ভেসে গেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন: সুনামগঞ্জে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি স্বৈরাচার পতনের পরও ষড়যন্ত্র চলমান: সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমান-এর খেলার মাঠ থেকে নদীতে: উপকূলের শিশুদের কঠিন জীবন কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: এজাহারভুক্ত আসামি জামায়াত কর্মী রাজীব মিস্ত্রি  গ্রেপ্তার জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, প্রতিষ্ঠিত সত্য: আইনমন্ত্রী গীর্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে লুট, গ্রেপ্তার ৩ দুষ্কৃতকারী হরমুজ সংকটে কোটি মানুষ দারিদ্র্যে পড়ার আশঙ্কা: জাতিসংঘ

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার  ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।  রোবার (৩ এপ্রিল)  ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদোন্নতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য যদি কেউ পেশাদারিত্ব বিসর্জন দেন, তাহলে তা সাময়িকভাবে লাভজনক মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে দেয় এবং প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ ধরনের আপস জনপ্রশাসনকে ধীরে ধীরে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় এবং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তখনই সম্ভব, যখন জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে তা প্রমাণিত হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জেলা প্রশাসকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

ডিসিদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকরাই সরকারের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ রক্ষা করেন। ফলে সরকারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসনের যেকোনো দায়িত্ব পালনের জন্য ডিসিদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ধরনের প্রস্তুতি থাকলে জনসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গত আড়াই মাসে কিছুটা উন্নতি হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে, যা সামাল দিয়ে বর্তমান সরকারকে এগোতে হচ্ছে। একই সময়ে দেশকে অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে বিচার বিভাগ, শিক্ষা খাত এবং দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ছিল দুর্বল। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলেও সরকার তা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ডিসিদের প্রতি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দেন।

সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য সারা বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিশ্চিত করতে ডিসিদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ডিসিদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা ও খরা মোকাবিলায়ও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সবশেষে তিনি জানান, বর্তমান সরকার মেধা, সততা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনপ্রশাসনে পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রে এই তিনটি মানদণ্ডই প্রাধান্য পাবে।

বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, পুরোপুরি বৈষম্য দূর করা কঠিন হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার  ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।  রোবার (৩ এপ্রিল)  ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদোন্নতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য যদি কেউ পেশাদারিত্ব বিসর্জন দেন, তাহলে তা সাময়িকভাবে লাভজনক মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে দেয় এবং প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ ধরনের আপস জনপ্রশাসনকে ধীরে ধীরে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় এবং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তখনই সম্ভব, যখন জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে তা প্রমাণিত হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জেলা প্রশাসকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

ডিসিদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকরাই সরকারের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ রক্ষা করেন। ফলে সরকারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসনের যেকোনো দায়িত্ব পালনের জন্য ডিসিদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ধরনের প্রস্তুতি থাকলে জনসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গত আড়াই মাসে কিছুটা উন্নতি হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে, যা সামাল দিয়ে বর্তমান সরকারকে এগোতে হচ্ছে। একই সময়ে দেশকে অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে বিচার বিভাগ, শিক্ষা খাত এবং দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ছিল দুর্বল। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলেও সরকার তা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ডিসিদের প্রতি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দেন।

সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য সারা বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিশ্চিত করতে ডিসিদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ডিসিদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা ও খরা মোকাবিলায়ও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সবশেষে তিনি জানান, বর্তমান সরকার মেধা, সততা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনপ্রশাসনে পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রে এই তিনটি মানদণ্ডই প্রাধান্য পাবে।

বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, পুরোপুরি বৈষম্য দূর করা কঠিন হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।