লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
তেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ার ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে, তাহলে কেজি প্রতি পণ্যমূল্য ৩০ পয়সা বাড়তে পারে
প্রচণ্ড গরমে বাংলাদেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩,০০০ মেগাওয়াটের ওপরে। শুক্রবার (২৪ এপ্যিল) সরকারি হিসেবে লোডশেডিং প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩০০০ মেগাওয়াটের মতো।
চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় বিদ্যুতের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রায় ১৭,০০০ মেগাওয়াট চাহিদা বিপরীতে উৎপাদন ১৪,০০০ মেগাওয়াট কাছাকাছি।
রাজধানী ঢাকায় তুলনায় কম লোডশেডিং হলেও, গ্রামে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অনেক বেশি।
আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ঘাটতি বেড়েছে বলে জানা গেছে।
তবে গ্যাস সঙ্কটের কারণেই লোডশেডিং বাড়ছে, তা স্বীকার করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেছেন, সব থেকে বড় সমস্যা গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই গ্যাসও আমদানি করতে হয়। দেশে মাত্র ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। আর ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়।
কিন্তু অর্থ সংস্থান হলেও কিছু সমস্যার কারণে চাহিদামাফিক গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।
শুক্রবার সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র ২ মাস। কিন্তু অনেকগুলো অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি। যা আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
সরকার এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, এলএনজি আমদানি ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন টার্মিনাল তৈরির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেন্ডারে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে তার তেমন প্রভাব পড়বে না।
দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অথচ আশপাশের যেকোনো দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশ থেকে বেশি। আমরা সতর্কভাবে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি। যাতে জনগণের উপর বেশি অভিঘাত না পরে।
মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ার ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে, তাহলে কেজি প্রতি পণ্যমূল্য ৩০ পয়সা বাড়তে পারে। এটুকু বৃদ্ধি সত্যিকার মূল্যস্ফীতিতে কোন প্রভাব পড়বে না।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের বাসিয়া খাল খননের উদ্বোধন করবেন। তার প্রস্তুতি পরিদর্শনে শুক্রবার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাওয় ইউনিয়নের মাসুকবাজারে খালটি পরিদর্শনে আসেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বাসিয়া খাল খননের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই খালের পূর্ণ দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার। আর খনন হবে ২৩ কিলোমিটার। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খনন হবে।
এতে এই ৯০ হাজার কৃষক উপকার পাবে। আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে।



















