ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে উধমপুর জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে সরু ও বাঁকানো সড়কগুলো বরাবরই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, যাত্রীবাহী বাসটি রামনগর শহর থেকে উধমপুরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটির ধারণক্ষমতা ছিল ৪২ জন হলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হওয়ায় বাসটির ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় বাসটি একটি বিপজ্জনক পাহাড়ি বাঁক অতিক্রম করছিল। ঠিক তখনই একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে প্রায় ৩০ মিটার (প্রায় ১০০ ফুট) নিচের পাথুরে খাদে গড়িয়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসটির বড় অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

উধমপুরের স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা প্রেম সিং জানান, ঘটনাস্থলেই ১৯ জন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সময় লাগলেও পরে আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও রামনগর সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে অনেক যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকে পড়েছিলেন, যাদের বের করতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাত্রী, সংকীর্ণ পাহাড়ি রাস্তা, এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো—এই তিনটি কারণ মিলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

কাশ্মীর অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যানবাহন পরিদর্শন, যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, এবং রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে এমন দুর্ঘটনা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন। সূত্র আল জাজিরা

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় : ১২:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে উধমপুর জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে সরু ও বাঁকানো সড়কগুলো বরাবরই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, যাত্রীবাহী বাসটি রামনগর শহর থেকে উধমপুরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটির ধারণক্ষমতা ছিল ৪২ জন হলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হওয়ায় বাসটির ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় বাসটি একটি বিপজ্জনক পাহাড়ি বাঁক অতিক্রম করছিল। ঠিক তখনই একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে প্রায় ৩০ মিটার (প্রায় ১০০ ফুট) নিচের পাথুরে খাদে গড়িয়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসটির বড় অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

উধমপুরের স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা প্রেম সিং জানান, ঘটনাস্থলেই ১৯ জন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সময় লাগলেও পরে আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও রামনগর সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে অনেক যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকে পড়েছিলেন, যাদের বের করতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাত্রী, সংকীর্ণ পাহাড়ি রাস্তা, এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো—এই তিনটি কারণ মিলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

কাশ্মীর অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যানবাহন পরিদর্শন, যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, এবং রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে এমন দুর্ঘটনা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন। সূত্র আল জাজিরা