মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনের আইন পেশার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। একই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
বুধবার বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি তাদের নজরে আসে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি এ অভিযোগ স্বীকারও করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযোগটি পেশাগত অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক উপাদান ও প্রামাণিক ভিত্তি বিদ্যমান থাকায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সনদ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাসদার হোসেন। এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলার অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি পরিচিত, যা ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে সুপরিচিত।
চাকরি থেকে অবসরের পর তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।