কাঁচা মরিচের মালয়েশিয়া জয়: রপ্তানিতে কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত
- আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে জামালপুরের কাঁচা মরিচ। দেশের সীমানা পেরিয়ে এখন এই গাঢ় সবুজ মরিচ আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে, যা বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জামালপুরের চরাঞ্চলের উর্বর পলিমাটিতে উৎপাদিত মরিচ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাজারে সমাদৃত ছিল। তবে এবার তা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে নতুন এক অর্জনের গল্প তৈরি করেছে।
নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব চরভূমিতে কৃষকরা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে মরিচ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা কমেছে, তবুও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি।

বিশেষ করে বালিজুরি ও হাইব্রিড জাতের মরিচ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারের তুলনায় প্রতি কেজিতে ৪-৫ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
বর্তমানে যেখানে সাধারণ বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম প্রায় ২৮ টাকা, সেখানে রপ্তানিযোগ্য মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৪ টাকায়। এতে কৃষকদের আয় বেড়েছে এবং উৎপাদনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুরী বাজার এখন রপ্তানি কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাইকার ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকে এই বাজার।
মাঠ থেকে সংগৃহীত মরিচ মোড়কজাত করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। প্রতি কার্টুনে ৯ কেজি করে মরিচ রপ্তানি করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন মরিচ মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছেন।
এই অর্জন শুধু স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং দেশের রপ্তানি খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

কৃষকদের মতে, আগে রপ্তানি বন্ধ থাকায় তারা ন্যায্য দাম পেতেন না। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে উৎপাদন খরচ মেটানোর পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কৃষিপণ্যের মানোন্নয়ন ও রপ্তানিযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম জমিতে চাষ হলেও উৎপাদন ও রপ্তানির এই অগ্রগতি দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
সব মিলিয়ে, জামালপুরের কাঁচা মরিচ রপ্তানি বাংলাদেশের কৃষিখাতের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এটি প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, বাজার সংযোগ এবং কৃষকের পরিশ্রম একত্রে দেশের কৃষিপণ্যকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।



















