প্রণয় ভার্মার বিদায়ী সাক্ষাৎ: জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের অঙ্গীকার: ডেপুটি স্পিকার
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
সোমবার জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে তার সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সংসদ গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।
সোমবার জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে তার সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন।
এসময় ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সংসদীয় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বহু ক্ষেত্রে অভিন্ন স্বার্থে কাজ করছে। সংসদীয় কার্যক্রমে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
বিশেষ করে লোকসভার সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
পাশাপাশি সংসদীয় কাঠামোর উন্নয়নে নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার ধারণা উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তবে এই কাঠামো বাস্তবায়নে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা প্রয়োজন।
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ও পেপারবিহীন ই-পার্লামেন্ট চালু, সংসদীয় কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তি-বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা সহজীকরণ, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।
উভয়পক্ষই একমত হন যে, নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে।
সাক্ষাৎ শেষে প্রণয় ভার্মা ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন।
এই ধরনের কূটনৈতিক বিনিময় ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


















