হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ভেঙে পড়া এবং প্রণালী অবরোধের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে পৌঁছায়, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠে যায়।
এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধ কেবল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অবরোধ পরিকল্পনাকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অবরোধ কার্যকর হলে এই রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দৈনিক ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই স্থগিত থাকা প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ যুক্ত হলে বৈশ্বিক বাজারে সংকট আরও গভীর হবে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।
একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করবেন, যা বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হেজ ফান্ড ও জ্বালানি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন।
এদিকে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনাও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখা, কিন্তু এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকেরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নিলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে।
বিশেষ করে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক পরিবহন ও শিল্প খাতকে প্রভাবিত করবে।
একই সঙ্গে তেলের স্পট মার্কেট ও আগাম বাজারের দামের ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা সরবরাহ সংকটের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলবে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



















