এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি নিশ্চিতে স্বস্তি, ৯০ দিনের মজুদের লক্ষ্যে সরকার
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি জানিয়েছেন, সরকার আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের এককালীন চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে এবং এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের খরচ, গণপরিবহণ ভাড়া এবং খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে।
এ অবস্থায় নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি জনগণের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত বছর মার্চে যেখানে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে চলতি বছরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টনে।
একইভাবে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর একটি শীর্ষস্থানীয় পেট্রোল পাম্পে ২০২৫ সালের মার্চে যেখানে দৈনিক প্রায় ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হতো, বর্তমানে সেখানে ৯ থেকে ১০ হাজার লিটার বিক্রি হলেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সরকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রতিদিন গড়ে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমোদিত পাঁচটি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ দফায় যশোর জেলার ১৫৩ জন অসহায় নারী-পুরুষের মধ্যে মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।




















