ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হত্যার অভিযোগে স্বামী কারাগারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হয়ে যেতো: নাঈম হাসান আদ্-দ্বীনের কোটি টাকার চাপ উপেক্ষা করে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুণীজনদের জীবদ্দশায় সম্মান জানালে সমাজসেবায় উৎসাহ বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর শনিবার, উন্নয়ন প্রত্যাশায় মুখিয়ে স্থানীয়রা যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সম্মত বিজিবি-বিএসএফ, নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিশ্রুতি নয়, নীতি বাস্তবায়নেই ভরসা অর্থমন্ত্রীর কালো টাকা সাদা করা নিয়ে যা বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান বাজেট: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা

কাজী হাফিজুল, কলকাতা
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে

নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলকাতার সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নন্দন চত্বর-এর চারুকলা ভবনের অবনীন্দ্র সভাঘরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নিউজ কলকাতা পরিবারের আয়োজিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা। সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলায় এক ছাদের নিচে উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন জেলার কবি, সাহিত্যিক, বাচিক শিল্পী ও সংস্কৃতিমনা মানুষজন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও রবীন্দ্র গবেষক ড. মুকুল চক্রবর্তীর সুমধুর কণ্ঠে মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। কাজী নজরুল ইসলামের এই ঐতিহ্যবাহী সংগীত অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবক ও সাহিত্যিক শহিদুল ইসলাম লস্কর, বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গবেষক ড. মুকুল চক্রবর্তী, ‘কৃশানু’ পত্রিকার সহসম্পাদক প্রমিত্র রায়, কবি-সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও আইনজীবী মইনুল হকসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে আগত গুণীজনদের ব্যাজ ও উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান কবি ও সমাজসেবিকা ডা. এস ইয়াসমিন রোজলিন এবং আইনজীবী দেবাশীষ মণ্ডল।

আলোচনা পর্বে বক্তারা সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবক শহিদুল ইসলাম লস্কর, ‘জনতার আদালত’ পত্রিকার কর্ণধার মতিয়ার রহমান এবং ড. মুকুল চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে কবি-সাহিত্যিকদের আরও বেশি করে একত্রিত হওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের মননকে বিকশিত করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা
নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কয়েকজন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য কাজী হেদায়েতুল্লাহকে ‘দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করা হয়। কবি জয়দীপ রায় চৌধুরীকে ‘২১ শতকের সেরা কবি সম্মান’, প্রমিত্র রায়কে ‘জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মান’ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ডা. সাবিনা ইয়াসমিন (রোজলিন)কে ‘মাদার তেরেসা স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করা হয়। এছাড়াও সেখ মইনুল হককে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, গান ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন অরিন রায়, ডা. এস ইয়াসমিন রোজলিন, প্রমিত্র রায়, জয়দীপ রায় চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম লস্কর, মইনুল হক, দেবাশীষ মণ্ডল, পার্থসারথী সরকার, সুমিতা চক্রবর্তী ও সাথী চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে।

কলকাতা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া ও মেদিনীপুর জেলার বহু কবি-সাহিত্যিক ও বাচিক শিল্পীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সাহিত্যচর্চা যে মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলে, এই বার্তাই উঠে আসে পুরো আয়োজনে।

সন্ধ্যার শেষে সকলের সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুমিতা চক্রবর্তী। সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, সমাজে মানবিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে এ ধরনের সাহিত্য সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

কলকাতার সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নন্দন চত্বর-এর চারুকলা ভবনের অবনীন্দ্র সভাঘরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নিউজ কলকাতা পরিবারের আয়োজিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা। সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলায় এক ছাদের নিচে উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন জেলার কবি, সাহিত্যিক, বাচিক শিল্পী ও সংস্কৃতিমনা মানুষজন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও রবীন্দ্র গবেষক ড. মুকুল চক্রবর্তীর সুমধুর কণ্ঠে মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। কাজী নজরুল ইসলামের এই ঐতিহ্যবাহী সংগীত অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবক ও সাহিত্যিক শহিদুল ইসলাম লস্কর, বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গবেষক ড. মুকুল চক্রবর্তী, ‘কৃশানু’ পত্রিকার সহসম্পাদক প্রমিত্র রায়, কবি-সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও আইনজীবী মইনুল হকসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে আগত গুণীজনদের ব্যাজ ও উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান কবি ও সমাজসেবিকা ডা. এস ইয়াসমিন রোজলিন এবং আইনজীবী দেবাশীষ মণ্ডল।

আলোচনা পর্বে বক্তারা সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবক শহিদুল ইসলাম লস্কর, ‘জনতার আদালত’ পত্রিকার কর্ণধার মতিয়ার রহমান এবং ড. মুকুল চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে কবি-সাহিত্যিকদের আরও বেশি করে একত্রিত হওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের মননকে বিকশিত করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা
নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কয়েকজন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য কাজী হেদায়েতুল্লাহকে ‘দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করা হয়। কবি জয়দীপ রায় চৌধুরীকে ‘২১ শতকের সেরা কবি সম্মান’, প্রমিত্র রায়কে ‘জীবনানন্দ দাস স্মৃতি সম্মান’ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ডা. সাবিনা ইয়াসমিন (রোজলিন)কে ‘মাদার তেরেসা স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করা হয়। এছাড়াও সেখ মইনুল হককে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, গান ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন অরিন রায়, ডা. এস ইয়াসমিন রোজলিন, প্রমিত্র রায়, জয়দীপ রায় চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম লস্কর, মইনুল হক, দেবাশীষ মণ্ডল, পার্থসারথী সরকার, সুমিতা চক্রবর্তী ও সাথী চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে।

কলকাতা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া ও মেদিনীপুর জেলার বহু কবি-সাহিত্যিক ও বাচিক শিল্পীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সাহিত্যচর্চা যে মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলে, এই বার্তাই উঠে আসে পুরো আয়োজনে।

সন্ধ্যার শেষে সকলের সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুমিতা চক্রবর্তী। সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, সমাজে মানবিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে এ ধরনের সাহিত্য সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই।