মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম লাগামছাড়া
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে।
৪ মার্চ প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ মূল্য। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইকারি দামও প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর মাঝখানে অবস্থিত এই নৌপথে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলার আশঙ্কা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর অনেক শিপিং কোম্পানি ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক বক্তব্যে জানান, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে যৌক্তিক মূল্যে ঝুঁকি বীমা সুবিধা দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন -এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পেট্রোলের গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁ
ছেছে। একই সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে; ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোও ৩ শতাংশের বেশি পতনের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে এবং তেল উৎপাদন ও রপ্তানি দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়, তবে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তীব্র হবে।

বাংলাদেশেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি সদর দপ্তরের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে না গেলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

















