জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল
- আপডেট সময় : ০১:২৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ এক আদেশ দিলেন বাংলাদেশ হাই কোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছেন, এই আদেশ ও অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার দুটি পৃথক রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম। আদালত দুটি রিট একসঙ্গে শুনানি করে রুল জারি করেন।
রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধান সংস্কারের সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবল সংসদের হাতে ন্যস্ত। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাদের মতে, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করে আইনজীবীরা বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। কারণ একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং জনগণের রায়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়েছে।
দীর্ঘ এক বছর ধরে আলোচনা ও সংলাপের পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদ চূড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় নির্ধারণ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। গণভোট আয়োজনের জন্য আলাদা অধ্যাদেশও জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এজন্য নির্বাচিত সদস্যদের আলাদাভাবে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিতে হবে।
তবে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোটের পর নতুন জটিলতা দেখা দেয়। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি কেবল এমপি হিসেবে শপথ নেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানে পরিষদের বিধান ও শপথ প্রক্রিয়া স্পষ্ট না থাকায় তারা এ শপথ নেননি।
বিএনপির এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও পরে দুই ধরনের শপথই গ্রহণ করেন।
এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ কতটা সাংবিধানিক ও টেকসই।


















