ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি: প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি:

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিককে হত্যা করে। তারা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি চালায়, অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে, স্থাপনা ও সম্পদ ভাংচুর করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।

২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের এই দিনে ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। পরবর্তীতে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।

ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক বিডিআরের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭১‘র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ মার্চ যে বাহিনী প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল সেই বাহিনীকে করেছে কলংকিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে এতজন সেনাকর্মকর্তাকে নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায়।

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি:
পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের জন্য দোয়ায় অংশ নেন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তারা : ফাইল ছবি

এই ঘটনাকে কেউ বিদ্রোহ, কেউ পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুরু থেকেই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং বিভিন্ন মহল অভিযোগ করে আসছেন, ঘটনার নেপথ্যের পূর্ণ সত্য এখনো জাতির সামনে উন্মোচিত হয়নি। বিশেষ করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে, যদিও তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরবর্তী সময়ে গঠিত তদন্ত কমিশনগুলো আংশিক তথ্য প্রকাশ করলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসেনি, এমন অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ জাতির মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। তদন্ত কমিশনের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সত্য উদ্ঘাটন করা এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা সুপারিশ করা।

পিলখানা ট্র্যাজেডি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি দেশের সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় গভীর আঘাত হানে। তাই আবেগ বা রাজনৈতিক বিভাজন নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জাতীয় ঐকমত্য।

জাতির স্বার্থে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ, পূর্ণ সত্য প্রকাশ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হতে পারে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক ) E-mail : gmbhuiyan@gmail.com

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি: প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:৪০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিককে হত্যা করে। তারা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি চালায়, অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে, স্থাপনা ও সম্পদ ভাংচুর করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।

২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের এই দিনে ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। পরবর্তীতে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।

ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক বিডিআরের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭১‘র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ মার্চ যে বাহিনী প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল সেই বাহিনীকে করেছে কলংকিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে এতজন সেনাকর্মকর্তাকে নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায়।

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি:
পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের জন্য দোয়ায় অংশ নেন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তারা : ফাইল ছবি

এই ঘটনাকে কেউ বিদ্রোহ, কেউ পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুরু থেকেই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং বিভিন্ন মহল অভিযোগ করে আসছেন, ঘটনার নেপথ্যের পূর্ণ সত্য এখনো জাতির সামনে উন্মোচিত হয়নি। বিশেষ করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে, যদিও তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরবর্তী সময়ে গঠিত তদন্ত কমিশনগুলো আংশিক তথ্য প্রকাশ করলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসেনি, এমন অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ জাতির মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। তদন্ত কমিশনের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সত্য উদ্ঘাটন করা এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা সুপারিশ করা।

পিলখানা ট্র্যাজেডি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি দেশের সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় গভীর আঘাত হানে। তাই আবেগ বা রাজনৈতিক বিভাজন নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জাতীয় ঐকমত্য।

জাতির স্বার্থে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ, পূর্ণ সত্য প্রকাশ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হতে পারে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক ) E-mail : gmbhuiyan@gmail.com