ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, বিদ্যুৎ খাতে ‘দেউলিয়া’ পরিস্থিতি-সংকট সামলাতে নতুন মন্ত্রীর ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ পরিকল্পনা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, বিদ্যুৎ খাতে ‘দেউলিয়া’ পরিস্থিতি-সংকট সামলাতে নতুন মন্ত্রীর ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ পরিকল্পনা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে বিদ্যুৎ খাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নতুন সরকার। রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মের বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখনই বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা আঠারো হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের নবনিযুক্ত বিদ্যুৎমন্ত্রী বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, অর্থ সংস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে।

পরিকল্পনা আছে তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতে টোট্যালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট করে দিয়েছে আরকি। অনেক বকেয়া, অনেক দেনা পাওনা। জ্বালানি নেই, জ্বালানি ইমপোর্ট করতে হবে। মোট কথা হলো ভেরি কমপ্লিকেটেড। কাজ করে এগুলো সমাধান করতে হবে, বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রেখে অর্থ সংস্থানের মাধ্যমে এক ধরনের ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে। তার ভাষায়, বিদ্যুৎ খাতকে “টোটালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট” অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া রয়েছে। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সাত-আট মাসের বিল পরিশোধ হয়নি। বেসরকারি উৎপাদনকারীদের সংগঠন বিপপা সতর্ক করেছে, বকেয়া কমানো না গেলে গরমে তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের বিশ্লেষণ হলো, নরমালি আমরা যেটা দেখি, গরম যখন পড়বে তখন প্রচুর লোডশেডিং হবে। বাংলাদেশে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা মিলিয়ে মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

সারা দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ। দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২৩ জুলাই ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম তেলভিত্তিক কেন্দ্র কমিয়ে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পিক আওয়ারে তেলভিত্তিক কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে বকেয়া পরিশোধ, জ্বালানি আমদানি ও ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ, এই তিন সংকট সামলাতেই এখন সরকারের মূল লড়াই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, বিদ্যুৎ খাতে ‘দেউলিয়া’ পরিস্থিতি-সংকট সামলাতে নতুন মন্ত্রীর ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৪:১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে বিদ্যুৎ খাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নতুন সরকার। রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মের বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখনই বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা আঠারো হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের নবনিযুক্ত বিদ্যুৎমন্ত্রী বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, অর্থ সংস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে।

পরিকল্পনা আছে তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতে টোট্যালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট করে দিয়েছে আরকি। অনেক বকেয়া, অনেক দেনা পাওনা। জ্বালানি নেই, জ্বালানি ইমপোর্ট করতে হবে। মোট কথা হলো ভেরি কমপ্লিকেটেড। কাজ করে এগুলো সমাধান করতে হবে, বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রেখে অর্থ সংস্থানের মাধ্যমে এক ধরনের ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে। তার ভাষায়, বিদ্যুৎ খাতকে “টোটালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট” অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া রয়েছে। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সাত-আট মাসের বিল পরিশোধ হয়নি। বেসরকারি উৎপাদনকারীদের সংগঠন বিপপা সতর্ক করেছে, বকেয়া কমানো না গেলে গরমে তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের বিশ্লেষণ হলো, নরমালি আমরা যেটা দেখি, গরম যখন পড়বে তখন প্রচুর লোডশেডিং হবে। বাংলাদেশে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা মিলিয়ে মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

সারা দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ। দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২৩ জুলাই ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম তেলভিত্তিক কেন্দ্র কমিয়ে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পিক আওয়ারে তেলভিত্তিক কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে বকেয়া পরিশোধ, জ্বালানি আমদানি ও ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ, এই তিন সংকট সামলাতেই এখন সরকারের মূল লড়াই।