ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার বহুল আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় চার ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক; তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পূর্বের হাজতবাস সাজা থেকে সমন্বয় হবে।

মামলার বিবরণে উঠে আসে এক বিভীষিকাময় ঘটনা। ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী এক বান্ধবীর সঙ্গে আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে যান। সন্ধ্যার পর আসামিরা তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর তাকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন
বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন

এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী তদন্ত কর্মকর্তা পূর্বের নথি যাচাই করে চার আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ৯(৩) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন আটজন সাক্ষী ও একাধিক দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে। আসামিরা ৩৪২ ধারায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও কোনো সাফাই সাক্ষ্য দেয়নি।

আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করে। সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর বার্তা দিতেই এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের অনুলিপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায় কেবল চার অপরাধীর শাস্তিই নয়, এটি নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার বহুল আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় চার ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক; তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পূর্বের হাজতবাস সাজা থেকে সমন্বয় হবে।

মামলার বিবরণে উঠে আসে এক বিভীষিকাময় ঘটনা। ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী এক বান্ধবীর সঙ্গে আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে যান। সন্ধ্যার পর আসামিরা তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর তাকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন
বুড়িগঙ্গার বুকে পাশবিকতা: কামরাঙ্গীরচরের চার ধর্ষকের যাবজ্জীবন

এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী তদন্ত কর্মকর্তা পূর্বের নথি যাচাই করে চার আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ৯(৩) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন আটজন সাক্ষী ও একাধিক দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে। আসামিরা ৩৪২ ধারায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও কোনো সাফাই সাক্ষ্য দেয়নি।

আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করে। সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর বার্তা দিতেই এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের অনুলিপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায় কেবল চার অপরাধীর শাস্তিই নয়, এটি নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা।