ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

নাক চেপে হাঁটতে হয় ফুটপাতে, যত্রতত্র প্রস্রাব বন্ধ না হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

নাক চেপে হাঁটতে হয় ফুটপাতে, যত্রতত্র প্রস্রাব বন্ধ না হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর ফুটপাত এখন আর শুধু হাঁটার পথ নয়, এগুলো ক্রমেই পরিণত হচ্ছে উন্মুক্ত প্রস্রাবখানা ও ময়লার ভাগাড়ে। পরীবাগ পথচারী সেতুর নিচ দিয়ে হাঁটলেই নাকে লাগে তীব্র, অসহনীয় প্রস্রাবের গন্ধ। কয়েক মিনিট দাঁড়ালেই দেখা যায়, একজন রিকশাচালক এসে দাঁড়াচ্ছেন, তারপর আরেকজন।

শুধু রিকশাচালকই নন, ভাসমান মানুষ ও পথচারীদের অনেকেই প্রকাশ্যেই প্রস্রাব করছেন। মাস্ক পরেও এই দুর্গন্ধ এড়ানো যায় না। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে নাক চেপে হাঁটা যেন এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা।

এই চিত্র শুধু নগরীর কোন একটি নির্দিষ্টস্থানে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা কালী মন্দির, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, গুলিস্তান, রমনা বা মগবাজার-ফকিরাপুলের চিত্র নয়, গোটা শহরের চিত্র একই।  ঝকঝকে ফুটপাত রিকশাচালকদের অস্থায়ী প্রস্রাবস্থলে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। প্রস্রাবের কারণে ফুটপাতের অংশবিশেষ সারাক্ষণ ভেজা ও দুর্গন্ধময় থাকে।

হাতিরপুল, মগবাজার, উত্তরা হাউস বিল্ডিং-রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বহু এলাকা এখন নিয়মিত এ ধরনের নোংরামির শিকার। প্রতিদিন লাখো মানুষ রাস্তায় কাজ করেন। তাদের বড় অংশ রিকশাচালক, সিএনজি চালক, হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। কিন্তু নগরীতে তাদের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। ফলে ফুটপাত, দেয়াল ও খোলা জায়গাই হয়ে উঠছে প্রস্রাবের জায়গা।

গবেষণা বলছে, ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে। অথচ নিবন্ধিত রিকশা মাত্র দুই লাখের কিছু বেশি। এই বিপুল সংখ্যক চালকের জন্য আলাদা কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই, এটি নগর ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতা।

তবে টয়লেটের অভাব থাকলেও প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার কোনো নৈতিক বা স্বাস্থ্যগত বৈধতা নেই। সচেতনতার ঘাটতি, শাস্তির অনুপস্থিতি ও দায়িত্বহীনতা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেয়ালে এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ লেখা থাকলেও কেউ তা মানে না। একজন শুরু করলে অন্যরা অনুসরণ করে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হয় দুর্গন্ধময় স্পটে। এতে যেমন নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করা শুধু অসভ্যতারই নয়, গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির লক্ষণ। সংক্রমিত ব্যক্তির প্রস্রাবের মাধ্যমে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

প্রস্রাবের জীবাণু বাতাসে ভেসে খাবার বা শ্বাসনালিতে প্রবেশের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভার ও কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি রাস্তার পিচ, ফুটপাত ও আশপাশের গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য শোনা গেলেও বাস্তবে রাজধানীর ফুটপাত দখল, উন্মুক্ত প্রস্রাব, বর্জ্যের স্তুপ-সবই আগের চেয়ে আরও প্রসার ঘটে।

কঠোর নজরদারি, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আইনের প্রয়োগ ছাড়া এ অবস্থা বদলানো সম্ভব নয়।

রাজধানী কি তাহলে উন্মুক্ত প্রস্রাবখানায় পরিণত হবে? নাকি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও নগর সভ্যতা রক্ষায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। এখনই দৃশ্যমান, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নাক চেপে হাঁটতে হয় ফুটপাতে, যত্রতত্র প্রস্রাব বন্ধ না হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর ফুটপাত এখন আর শুধু হাঁটার পথ নয়, এগুলো ক্রমেই পরিণত হচ্ছে উন্মুক্ত প্রস্রাবখানা ও ময়লার ভাগাড়ে। পরীবাগ পথচারী সেতুর নিচ দিয়ে হাঁটলেই নাকে লাগে তীব্র, অসহনীয় প্রস্রাবের গন্ধ। কয়েক মিনিট দাঁড়ালেই দেখা যায়, একজন রিকশাচালক এসে দাঁড়াচ্ছেন, তারপর আরেকজন।

শুধু রিকশাচালকই নন, ভাসমান মানুষ ও পথচারীদের অনেকেই প্রকাশ্যেই প্রস্রাব করছেন। মাস্ক পরেও এই দুর্গন্ধ এড়ানো যায় না। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে নাক চেপে হাঁটা যেন এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা।

এই চিত্র শুধু নগরীর কোন একটি নির্দিষ্টস্থানে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা কালী মন্দির, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, গুলিস্তান, রমনা বা মগবাজার-ফকিরাপুলের চিত্র নয়, গোটা শহরের চিত্র একই।  ঝকঝকে ফুটপাত রিকশাচালকদের অস্থায়ী প্রস্রাবস্থলে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। প্রস্রাবের কারণে ফুটপাতের অংশবিশেষ সারাক্ষণ ভেজা ও দুর্গন্ধময় থাকে।

হাতিরপুল, মগবাজার, উত্তরা হাউস বিল্ডিং-রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বহু এলাকা এখন নিয়মিত এ ধরনের নোংরামির শিকার। প্রতিদিন লাখো মানুষ রাস্তায় কাজ করেন। তাদের বড় অংশ রিকশাচালক, সিএনজি চালক, হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। কিন্তু নগরীতে তাদের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। ফলে ফুটপাত, দেয়াল ও খোলা জায়গাই হয়ে উঠছে প্রস্রাবের জায়গা।

গবেষণা বলছে, ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে। অথচ নিবন্ধিত রিকশা মাত্র দুই লাখের কিছু বেশি। এই বিপুল সংখ্যক চালকের জন্য আলাদা কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই, এটি নগর ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতা।

তবে টয়লেটের অভাব থাকলেও প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার কোনো নৈতিক বা স্বাস্থ্যগত বৈধতা নেই। সচেতনতার ঘাটতি, শাস্তির অনুপস্থিতি ও দায়িত্বহীনতা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেয়ালে এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ লেখা থাকলেও কেউ তা মানে না। একজন শুরু করলে অন্যরা অনুসরণ করে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হয় দুর্গন্ধময় স্পটে। এতে যেমন নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করা শুধু অসভ্যতারই নয়, গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির লক্ষণ। সংক্রমিত ব্যক্তির প্রস্রাবের মাধ্যমে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

প্রস্রাবের জীবাণু বাতাসে ভেসে খাবার বা শ্বাসনালিতে প্রবেশের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভার ও কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি রাস্তার পিচ, ফুটপাত ও আশপাশের গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য শোনা গেলেও বাস্তবে রাজধানীর ফুটপাত দখল, উন্মুক্ত প্রস্রাব, বর্জ্যের স্তুপ-সবই আগের চেয়ে আরও প্রসার ঘটে।

কঠোর নজরদারি, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আইনের প্রয়োগ ছাড়া এ অবস্থা বদলানো সম্ভব নয়।

রাজধানী কি তাহলে উন্মুক্ত প্রস্রাবখানায় পরিণত হবে? নাকি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও নগর সভ্যতা রক্ষায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। এখনই দৃশ্যমান, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।