জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এই দাবি উঠে আসে শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রেক্ষিতে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন নারী নেত্রীরা। গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের বলেন, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি সংবিধানভিত্তিক নারী মর্যাদা ও সমতার লঙ্ঘন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য কুরুচিপূর্ণ ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনার পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের জামিন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
নারী নেত্রীরা বলেন, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য খাতে শ্রমজীবী নারীরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের শ্রম ও মর্যাদাকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
নারী নেত্রীরা সিইসির কাছে দাবি করেছেন:
-
অবমাননাকর মন্তব্য প্রত্যাহার
-
কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা
-
ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য না করার অঙ্গীকার
-
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ
-
ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

















