ঝলক দেখাচ্ছে ইরানি ড্রোন, ভড়কে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী?
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
ইরানি ড্রোনের উপস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী যে নতুন করে চাপে পড়ছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রশ্নটি সহজ নয়, মার্কিন বাহিনী সত্যিই ভড়কে যাচ্ছে কি না, তবে বাস্তবতা হলো, সাগরে আর নিজেদের আগের মতো নিরাপদ মনে করতে পারছে না তারা। ইরানি ড্রোনকে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীকে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দিকে আগ্রাসীভাবে ধেয়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, শাহেদ-১৩৯ মডেলের ড্রোনটি কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে রণতরীর দিকে এগিয়ে আসছিল। একাধিক সতর্কবার্তা এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও ড্রোনটি গতিপথ পরিবর্তন না করায় একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান থেকে গুলি করে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়।
ঘটনার সময় মার্কিন রণতরীটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি এবং রণতরীরও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
তেহরান এই ঘটনায় সরাসরি কোনো আগ্রাসনের অভিযোগ স্বীকার করেনি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নজরদারি মিশনে থাকা একটি ড্রোনের সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে কীভাবে বা কেন এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে ঘটেছে। একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে এই সামরিক সংঘাত আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি ওই অঞ্চলে নৌবহর পাঠানোর পর থেকেই পরিস্থিতি থমথমে ছিল।
ড্রোন ভূপাতিতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানি বোট ও ড্রোন দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তোলে সেন্টকম। এতে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব সাগরের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত এক দশকে ইরান ড্রোন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির ড্রোন বহরের একটি বড় অংশ পরিচালনা করে। এই বহরে রয়েছে নজরদারি, আক্রমণ এবং আত্মঘাতী বা ‘কামিকাজে’ অভিযানের উপযোগী নানা ধরনের ড্রোন।
মঙ্গলবার ব্যবহৃত শাহেদ-১৩৯ ড্রোনটি ইরানের বহুল পরিচিত শাহেদ সিরিজের একটি উন্নত সংস্করণ, যা দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে এবং আগের তুলনায় অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। শাহেদ-১৩৬ ড্রোনটি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল এবং শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
এছাড়া ইরানের মোহাজের সিরিজের ড্রোনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ মোহাজের-১০ প্রায় ২৪ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। কামিন-২২ ড্রোনটি মার্কিন প্রিডেটর বা রিপার ড্রোনের আদলে তৈরি, যা কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে আঘাত হানতে পারে।
এদিকে জেট ইঞ্জিনচালিত কাররার এবং রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম সায়েক ড্রোন ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই ক্রমবর্ধমান ড্রোন বহর এখন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: এনডিটিভি



















