ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুবর্ণগ্রাম: এক ছাদের নিচে প্রকৃতি, বিনোদন ও স্বস্তির ঠিকানা (১) বাংলাদেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দু’মাসে দ্বিগুণ মব সন্ত্রাসে মৃত্যু: আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ কারামুক্ত আসামির পরিচয়ে জেল পালাল হত্যা মামলার আসামি, বরখাস্ত ৬ কারারক্ষী ‘চুক্তির পথে হাঁটবে তেহরান’, ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের সেনাপ্রধানের কূটনৈতিক বার্তা জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৮৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নির্বাচন সামনে রেখে লুটের অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে  শঙ্কা, নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ গোপালগঞ্জের শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: এক দশক পর পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড

কারামুক্ত আসামির পরিচয়ে জেল পালাল হত্যা মামলার আসামি, বরখাস্ত ৬ কারারক্ষী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

কারামুক্ত আসামির পরিচয়ে জেল পালাল হত্যা মামলার আসামি, বরখাস্ত ৬ কারারক্ষী: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কারামুক্ত এক আসামির নাম-ঠিকানা ও জামিননামা ব্যবহার করে জেল থেকে পালিয়েছে হত্যা মামলার এক আসামি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদিসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পলাতক আসামির নাম হৃদয় মিয়া (২৮)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তিনি জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

কারা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৫১ ধারায় কারাবন্দি ছিলেন নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮)। তার জামিননামা গত ২৯ ডিসেম্বর কারাগারে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে দিদার হোসেনকে মুক্ত করার সময় কৌশলে তার পরিচয় ধারণ করেন হৃদয় মিয়া।

মুক্তির সময় হৃদয় মিয়া দিদার হোসেনের কেস হিস্ট্রি টিকিটে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন এবং ছবি হারিয়েছে বলে দাবি করেন। দায়িত্বরত কারারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে দিদার হোসেন হিসেবে পরিচয় দেন। মামলার কাগজে ছবি না থাকায় এবং কারাভ্যন্তরে থাকা অন্য কয়েকজন আসামির সহায়তায় তাকে জামিনপ্রাপ্ত হাজতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এর ফলে হত্যা মামলার আসামি হৃদয় মিয়াকে ভুলবশত মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট আসামিরা অনৈতিক লাভের আশায় যোগসাজশে হৃদয়কে পালাতে সহায়তা করার কথা স্বীকার করে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা শাখার কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান এবং আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়েরকে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া জানান, অন্য আসামির জামিননামা ব্যবহার করে হত্যা মামলার এক আসামি পালিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কারামুক্ত আসামির পরিচয়ে জেল পালাল হত্যা মামলার আসামি, বরখাস্ত ৬ কারারক্ষী

আপডেট সময় : ১১:০২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কারামুক্ত এক আসামির নাম-ঠিকানা ও জামিননামা ব্যবহার করে জেল থেকে পালিয়েছে হত্যা মামলার এক আসামি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদিসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পলাতক আসামির নাম হৃদয় মিয়া (২৮)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তিনি জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

কারা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৫১ ধারায় কারাবন্দি ছিলেন নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮)। তার জামিননামা গত ২৯ ডিসেম্বর কারাগারে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে দিদার হোসেনকে মুক্ত করার সময় কৌশলে তার পরিচয় ধারণ করেন হৃদয় মিয়া।

মুক্তির সময় হৃদয় মিয়া দিদার হোসেনের কেস হিস্ট্রি টিকিটে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন এবং ছবি হারিয়েছে বলে দাবি করেন। দায়িত্বরত কারারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে দিদার হোসেন হিসেবে পরিচয় দেন। মামলার কাগজে ছবি না থাকায় এবং কারাভ্যন্তরে থাকা অন্য কয়েকজন আসামির সহায়তায় তাকে জামিনপ্রাপ্ত হাজতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এর ফলে হত্যা মামলার আসামি হৃদয় মিয়াকে ভুলবশত মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট আসামিরা অনৈতিক লাভের আশায় যোগসাজশে হৃদয়কে পালাতে সহায়তা করার কথা স্বীকার করে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা শাখার কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান এবং আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়েরকে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া জানান, অন্য আসামির জামিননামা ব্যবহার করে হত্যা মামলার এক আসামি পালিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।