ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: নজরদারি বাড়িয়েছে সিটিটিসি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম

চট্টগ্রামের বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে মানবতার স্মরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শ্রদ্ধা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে মানবতার স্মরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শ্রদ্ধা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্র শুধু ইতিহাসের নিদর্শন নয়, এটি মানবতার জন্য আত্মত্যাগের এক নীরব সাক্ষী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় সময়ে জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমার ঊর্ধ্বে উঠে যাঁরা মানবমুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, এই সমাধিক্ষেত্র তাঁদের স্মৃতি বহন করে চলেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সেই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়, তিনি বিশেষভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদ মার্কিন পাইলট উইলিয়াম বি. রাইস-এর কর্ম ও আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।

এই সমাধিক্ষেত্রে মোট ৭৫১ জন যুদ্ধাহত ও শহীদের সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন নাবিক, ৫৪৫ জন সেনাসদস্য এবং ১৯৪ জন বিমানবাহিনীর সদস্য অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এখানে বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, এমন চারটি সমাধি রয়েছে, যা এই স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বিস্তৃত করেছে।

চট্টগ্রামের এই সমাধিক্ষেত্রের অন্যতম মানবিক দিক হলো, এখানে বিশ্বের বহু দেশের সৈন্যদের চিরনিদ্রার স্থান হয়েছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা, বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার), নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং অবিভক্ত ভারতের সৈন্যদের সমাধি এখানে রয়েছে। অবিভক্ত ভারতের ২১৪ জন সৈন্যের সমাধির মধ্যে ১০ জনের বেশি ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের অধিবাসী, যা এই অঞ্চলের মানুষের বৈশ্বিক ইতিহাসে ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে চলা এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মানুষগুলো কেবল সৈনিক ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন পরিবারের সন্তান, কারও বাবা, কারও ভাই, কারও প্রিয়জন। তাঁদের আত্মত্যাগের মূল প্রেরণা ছিল যুদ্ধ নয়, বরং আগ্রাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিশ্বযুদ্ধের সেই মানবিক বার্তাকেই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে ভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে লড়েছিলেন একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীন পৃথিবীর আশায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রামের বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে মানবতার স্মরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০৩:৩০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্র শুধু ইতিহাসের নিদর্শন নয়, এটি মানবতার জন্য আত্মত্যাগের এক নীরব সাক্ষী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় সময়ে জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমার ঊর্ধ্বে উঠে যাঁরা মানবমুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, এই সমাধিক্ষেত্র তাঁদের স্মৃতি বহন করে চলেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সেই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়, তিনি বিশেষভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদ মার্কিন পাইলট উইলিয়াম বি. রাইস-এর কর্ম ও আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।

এই সমাধিক্ষেত্রে মোট ৭৫১ জন যুদ্ধাহত ও শহীদের সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন নাবিক, ৫৪৫ জন সেনাসদস্য এবং ১৯৪ জন বিমানবাহিনীর সদস্য অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এখানে বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, এমন চারটি সমাধি রয়েছে, যা এই স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বিস্তৃত করেছে।

চট্টগ্রামের এই সমাধিক্ষেত্রের অন্যতম মানবিক দিক হলো, এখানে বিশ্বের বহু দেশের সৈন্যদের চিরনিদ্রার স্থান হয়েছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা, বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার), নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং অবিভক্ত ভারতের সৈন্যদের সমাধি এখানে রয়েছে। অবিভক্ত ভারতের ২১৪ জন সৈন্যের সমাধির মধ্যে ১০ জনের বেশি ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের অধিবাসী, যা এই অঞ্চলের মানুষের বৈশ্বিক ইতিহাসে ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে চলা এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মানুষগুলো কেবল সৈনিক ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন পরিবারের সন্তান, কারও বাবা, কারও ভাই, কারও প্রিয়জন। তাঁদের আত্মত্যাগের মূল প্রেরণা ছিল যুদ্ধ নয়, বরং আগ্রাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিশ্বযুদ্ধের সেই মানবিক বার্তাকেই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে ভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে লড়েছিলেন একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীন পৃথিবীর আশায়।