১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সিদ্ধান্তে অটল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক-সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস ও সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান-মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারের মধ্যেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, কে কী বললো, তা বিবেচ্য নয়। নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারিতেই-এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তির পথ বন্ধ করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তিনি বলেন, ক্রমেই মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও কনটেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।
এ বিষয়ে একমত পোষণ করে সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে আরও সমন্বিত ও জোরালো প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
দুই সাবেক কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে প্রফেসর ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার একজন বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়াটি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সময় এখনও উপযুক্ত নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন অপরাধীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে, অনুশোচনা প্রকাশ করে। কিন্তু যারা বর্বরোচিত অপরাধ করেছে, তারা এখনো সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানে রয়েছে। বরং তারা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।



















