নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
ফাইল ছবিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি বাসসের
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে তিনি উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দেশি–বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া তথ্যের ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশ্বাসও দেন তিনি।
টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুমসংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) পুনর্গঠন এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ভলকার তুর্ক গুমসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি বাস্তব অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব হস্তান্তরের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গুমসংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
টেলিফোনালাপের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


















