ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

এক বছরে ৭ দেশে হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প, ৬টিই মুসলিমপ্রধান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

এক বছরে ৭ দেশে হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প, ৬টিই মুসলিমপ্রধান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার পরিসংখ্যান ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা (এসিএলইডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের অন্তত সাতটি দেশে ৬২২টি সামরিক হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত থেকে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

এসব অভিযানের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে সংঘটিত হয়েছে। সিরিয়ায় আইএস সংশ্লিষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যা ওয়াশিংটনের ভাষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছে। একইভাবে ইরাক, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ায় পরিচালিত অভিযানগুলোও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে ইয়েমেন ও সোমালিয়ায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানকে মাদক পাচার রোধের উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও কারাকাস সরকার একে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র যে সাতটি দেশে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তার মধ্যে ছয়টিই মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র। এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য ও কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান সামরিক সক্রিয়তা সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একটি স্পষ্ট নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এক বছরে ৭ দেশে হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প, ৬টিই মুসলিমপ্রধান

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার পরিসংখ্যান ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা (এসিএলইডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের অন্তত সাতটি দেশে ৬২২টি সামরিক হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত থেকে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

এসব অভিযানের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে সংঘটিত হয়েছে। সিরিয়ায় আইএস সংশ্লিষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যা ওয়াশিংটনের ভাষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছে। একইভাবে ইরাক, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ায় পরিচালিত অভিযানগুলোও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে ইয়েমেন ও সোমালিয়ায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানকে মাদক পাচার রোধের উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও কারাকাস সরকার একে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র যে সাতটি দেশে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তার মধ্যে ছয়টিই মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র। এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য ও কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান সামরিক সক্রিয়তা সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একটি স্পষ্ট নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।