উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গুম ও হাওর সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ অনুমোদন
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ–২০২৫–এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ কার্যকর হলে কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে।
এ ছাড়া মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’-এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ–২০২৫–এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায়। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের ইকোসিস্টেম বিশ্বে বিরল ও অনন্য হলেও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী ও নদীপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাবে এই পরিবেশব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি জলাভূমি সংরক্ষণে বিদ্যমান আইনি কাঠামোও অপর্যাপ্ত।
নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও অধিক্ষেত্র সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকা ঘোষণা, নিষিদ্ধ কার্যক্রম নির্ধারণ এবং অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতদিন জেনেভায় অবস্থিত পার্মানেন্ট মিশন থেকেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় বার্নে দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট সেক্রেটারি ও কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মোট ৮২টি মিশন রয়েছে।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গুরুতর অসুস্থতা নিয়েও আলোচনা হয়। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানানো হয়।



















