ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ভূমিকম্পে ছেলের মৃত্যু কথা জানেনই না অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা  মা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

ভূমিকম্পে ছেলের মৃত্যু কথা জানেনই না অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা  মা: প্রতীকী ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার বংশালে ভূমিকম্পে আহত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে আছেন নুসরাত। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর শরীর, তবু ছেলের খোঁজ নিতে এক মুহূর্তও থামছেন না তিনি। বারবার জিজ্ঞেস করছেন, রাফি কেমন আছে? অথচ কেউই সাহস করে জানানোর মতো অবস্থায় নেই।

কারণ তার নাড়িছেঁড়া সন্তান, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফি, আর কোনোদিন চোখ মেলে পৃথিবী দেখবে না।

বগুড়ার বাড়ি থেকে দূরে মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি। বাবা চাকরি করেন দিনাজপুরে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে হালকা বাজার সেরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।

বংশালের কসাইতুলির নয়নের মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। ঠিক তখনই শুরু হয় তীব্র ভূমিকম্প। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে মা–ছেলের ওপর।

সহপাঠী অপু জানান, আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় রাফির জীবন। ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রেলিংয়ের আঘাতে ছেলেটির মাথা ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মা নুসরাত গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। চিকিৎসকরা জানালেও এখনো তাকে ছেলের মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়নি। অপু বলেন, তিনি নিজেও প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে আছেন। এখনই এমন শোক তাকে জানানো অসম্ভব।

এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন রাফির একমাত্র বোন। ভাইয়ের নিথর দেহ আর অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা মাকে দেখে তিনি ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশে অনুভূত হয় ভূমিকম্পটি। মাত্রা ছিল ৫.৭। শুধু বংশালেই রেলিং ভেঙে মারা যান তিন পথচারী—তাদের একজন রাফি। অল্প সময়ের তীব্র একটি কম্পন এভাবেই একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ আর আনন্দ কেড়ে নিলো নির্মমভাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভূমিকম্পে ছেলের মৃত্যু কথা জানেনই না অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা  মা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার বংশালে ভূমিকম্পে আহত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে আছেন নুসরাত। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর শরীর, তবু ছেলের খোঁজ নিতে এক মুহূর্তও থামছেন না তিনি। বারবার জিজ্ঞেস করছেন, রাফি কেমন আছে? অথচ কেউই সাহস করে জানানোর মতো অবস্থায় নেই।

কারণ তার নাড়িছেঁড়া সন্তান, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফি, আর কোনোদিন চোখ মেলে পৃথিবী দেখবে না।

বগুড়ার বাড়ি থেকে দূরে মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি। বাবা চাকরি করেন দিনাজপুরে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে হালকা বাজার সেরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।

বংশালের কসাইতুলির নয়নের মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। ঠিক তখনই শুরু হয় তীব্র ভূমিকম্প। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে মা–ছেলের ওপর।

সহপাঠী অপু জানান, আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় রাফির জীবন। ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রেলিংয়ের আঘাতে ছেলেটির মাথা ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মা নুসরাত গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। চিকিৎসকরা জানালেও এখনো তাকে ছেলের মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়নি। অপু বলেন, তিনি নিজেও প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে আছেন। এখনই এমন শোক তাকে জানানো অসম্ভব।

এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন রাফির একমাত্র বোন। ভাইয়ের নিথর দেহ আর অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা মাকে দেখে তিনি ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশে অনুভূত হয় ভূমিকম্পটি। মাত্রা ছিল ৫.৭। শুধু বংশালেই রেলিং ভেঙে মারা যান তিন পথচারী—তাদের একজন রাফি। অল্প সময়ের তীব্র একটি কম্পন এভাবেই একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ আর আনন্দ কেড়ে নিলো নির্মমভাবে।