ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে আন্দোলনে থাকা জামায়াতসহ ৮ দল
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১৯ বার পড়া হয়েছে
সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, ১১ তারিখ ঢাকায় লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতির আগে আমাদের ৫ দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। নতুবা ঢাকার অবস্থা ভিন্ন হবে
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ ৫ দাবিতে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত ৮ দল।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান শেষে মৎস্য ভবন মোড়ে ৮ দলের তরফে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, যমুনায় যাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। কিন্তু আমাদের দাবি ছিল মহাপরিচালকের কাছে নয়, স্মারকলিপি দেবো প্রধান উপদেষ্টার কাছে। পরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন।

পরওয়ার আরও বলেন, আমরা ৮ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আদিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। স্মারকলিপি পড়ে শুনিয়েছি। শিল্প উপদেষ্টা আমাদের দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেননি। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের ৫ দাবি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
জামায়াত নেতা বলেন, শিল্প উপদেষ্টা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আলোচনার কথা।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, ১১ তারিখ ঢাকায় লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতির আগে আমাদের ৫ দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। নতুবা ঢাকার অবস্থা ভিন্ন হবে।
এসময় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তথা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সরকারকে তাগিদ দেন।

বুধবার আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিতভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। আমাদের দাবি আগের মতোই একেবারে সুস্পষ্ট, গণভোট যেন অবশ্যই নির্বাচনের আগে হয় এবং পৃথক দিনে হয়।
দলগুলোর পাঁচ দফা দাবি হলো, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম–নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
ইসলামি আট দলের মধ্যে রয়েছে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।




















