ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ রামপালের এক ইউনিট বন্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ শেরপুরে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধের চালান জব্দ ‘আমেরিকানরা যোদ্ধা হলে ইরানের বীর বাহিনীর মুখোমুখি হোক’: পেজেশকিয়ান আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

মেঘনা পারে উৎসবের আমেজ: মধ্য রাতে নদীতে নামেন উপকূলের জেলেরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে

মেঘনা পারে উৎসবের আমেজ: মেঘনা-পদ্মায় উপকূলের জেলেরা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক ভূইয়া

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শনিবার মধ্য রাত থেকেই ফের নদীতে নামছেন উপকূলের জেলেরা। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত নদী ও সাগরে মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্য রাতে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে।

ভোলার জেলারা কয়েকদিন যাবতই মাছ ধরতে নিজেদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনার তীরে এখন প্রাণ ফিরেছে, মাছঘাট, আড়ত ও নদীপাড় জুড়ে জেলেদের ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ।

লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে জেলেরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। জাল মেরামত, নৌকা রং করা এবং ট্রলার সাজানোর কাজ শেষ করে এখন তাদের অপেক্ষা কেবল নদীতে নামার।

লক্ষ্মীপুর সদরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকার জেলে মো. হারুনুর রশিদ বলেন, মধ্য রাতেই তারা মাছ ধরতে নামবেন। বলেন, ১০ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাবো। এবার নদীতে মাছ কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শীত ঘনালে মাছ আরও কমে যাবে, তাই ঝুঁকি নিয়েই নামছি।

কমলনগরের মতিরহাট ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী আবদুল খালেক জানান, মধ্যরাত থেকেই মাছ ধরা শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে ঘাটে বেচাকেনা শুরু হবে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে। এতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছে।

চাঁদপুরে ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে নিবন্ধিত জেলে পরিবার ৪৫ হাজার ৬১৫টি। সরকার তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, আগের তুলনায় জেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ কমে যাচ্ছে। জ্বালানির দামও বেশি, ফলে ইলিশ না পেলে লোকসান গুনতে হয়। তবুও নতুন আশায় বুক বেঁধে তারা নদীতে নামছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, টাস্কফোর্সের কঠোর অভিযানের ফলে এ বছর ইলিশের প্রজনন নিরাপদ হয়েছে। লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা করছি।

অপরদিকে, বরগুনার নদ-নদী ও মৎস্যবন্দরগুলোতেও জেলেদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ২২ দিনের অবরোধ শেষে আবারও সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কেউ নতুন জাল কিনেছেন, কেউ পুরনো জাল মেরামত করছেন।

বরগুনার জেলে মনির মাঝি বলেন, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে আশায় বুক বেঁধে নদীতে নামি, কিন্তু আগের মতো ইলিশ পাওয়া যায় না। নদীর ধারা বদলে গেছে, মাছও সরে গেছে দূরে।

আরেক জেলে রাজিব হোসেন বলেন, সমুদ্রের বড় ট্রলিং বোটগুলো ছোট জেলেদের ভাগের মাছ কেটে নেয়। এগুলো বন্ধ করা দরকার।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অবৈধ ট্রলিং বোট বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। জেলায় ৩৭ হাজার ৯৯৫ নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। এখন তারা নতুন মৌসুমে নদীতে নামার অপেক্ষায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মেঘনা পারে উৎসবের আমেজ: মধ্য রাতে নদীতে নামেন উপকূলের জেলেরা

আপডেট সময় : ০৮:৩০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

আমিনুল হক ভূইয়া

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শনিবার মধ্য রাত থেকেই ফের নদীতে নামছেন উপকূলের জেলেরা। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত নদী ও সাগরে মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্য রাতে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে।

ভোলার জেলারা কয়েকদিন যাবতই মাছ ধরতে নিজেদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনার তীরে এখন প্রাণ ফিরেছে, মাছঘাট, আড়ত ও নদীপাড় জুড়ে জেলেদের ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ।

লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে জেলেরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। জাল মেরামত, নৌকা রং করা এবং ট্রলার সাজানোর কাজ শেষ করে এখন তাদের অপেক্ষা কেবল নদীতে নামার।

লক্ষ্মীপুর সদরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকার জেলে মো. হারুনুর রশিদ বলেন, মধ্য রাতেই তারা মাছ ধরতে নামবেন। বলেন, ১০ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাবো। এবার নদীতে মাছ কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শীত ঘনালে মাছ আরও কমে যাবে, তাই ঝুঁকি নিয়েই নামছি।

কমলনগরের মতিরহাট ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী আবদুল খালেক জানান, মধ্যরাত থেকেই মাছ ধরা শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে ঘাটে বেচাকেনা শুরু হবে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে। এতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছে।

চাঁদপুরে ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে নিবন্ধিত জেলে পরিবার ৪৫ হাজার ৬১৫টি। সরকার তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, আগের তুলনায় জেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ কমে যাচ্ছে। জ্বালানির দামও বেশি, ফলে ইলিশ না পেলে লোকসান গুনতে হয়। তবুও নতুন আশায় বুক বেঁধে তারা নদীতে নামছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, টাস্কফোর্সের কঠোর অভিযানের ফলে এ বছর ইলিশের প্রজনন নিরাপদ হয়েছে। লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা করছি।

অপরদিকে, বরগুনার নদ-নদী ও মৎস্যবন্দরগুলোতেও জেলেদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ২২ দিনের অবরোধ শেষে আবারও সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কেউ নতুন জাল কিনেছেন, কেউ পুরনো জাল মেরামত করছেন।

বরগুনার জেলে মনির মাঝি বলেন, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে আশায় বুক বেঁধে নদীতে নামি, কিন্তু আগের মতো ইলিশ পাওয়া যায় না। নদীর ধারা বদলে গেছে, মাছও সরে গেছে দূরে।

আরেক জেলে রাজিব হোসেন বলেন, সমুদ্রের বড় ট্রলিং বোটগুলো ছোট জেলেদের ভাগের মাছ কেটে নেয়। এগুলো বন্ধ করা দরকার।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অবৈধ ট্রলিং বোট বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। জেলায় ৩৭ হাজার ৯৯৫ নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। এখন তারা নতুন মৌসুমে নদীতে নামার অপেক্ষায়।