ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

হাসিনার সরকারের গোপন বন্দীশালায় নির্যাতনকেন্দ্র

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

গোপন বন্দিশালার : ছবি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গড়ে ওঠা বন্দীশালা তথা আয়নাঘর নামে পরিচিত গোপন নির্যাতনকেন্দ্র (টর্চার সেল) পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে বন্দিদের আটকে রাখার জন্য খুপড়ি, বৈদ্যুতিক চেয়ারসহ নির্যাতনের যন্ত্র, আটকে রাখা ব্যক্তিদের বিভিন্ন লেখা ও সাংকেতিক চিহ্ন দেখা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালায় বিনা বিচারে মানুষকে আটকে রাখা হতো। চালানো হতো অকথ্য নির্যতন। যার প্রমাণ মেরেল খুপরি ঘর, নির্যতনের চেয়ার, বসবাস অযোগ্য ছোট ছোট ঘর। দেওয়ালে দেওয়ালে নির্যাতিত মানুষের নানা কথা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর অনেকেই বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান। গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‌্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি, সিটিটিসি, সিআইডি, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে কমিশনে ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। তার মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেছে কমিশন। তাতে ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী ফিরে এসেছেন। বাকি ২৭ শতাংশ (অন্তত ২০৪ জন ব্যক্তি) নিখোঁজ।

বুধবার ঢাকার আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরায় তিনটি গোপনবন্দীশালা পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসব বন্দীশালার দুটি বন্দিশালা পরিচালনা করত র‌্যাব, একটি ডিজিএফআই।

পরিদর্শন শেষে গোপন বন্দিশালাকে বীভৎসতা ও নৃশংসতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস বলেন, আইয়ামে জাহেলিয়া বলে একটা কথা আছে না, গত সরকার (হাসিনা সরকার) আইয়ামে জাহেলিয়া প্রতিষ্ঠা করে গেছে। এই গোপন বন্দিশালা তার একটি নমুনা।


গোপন বন্দিশালার খুপরি ঘর। আলো-বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই। রয়েছে সজ্জিত নির্যাতনের চেয়ার। এসব বন্দীশালায় থাকা মানুষেরা দেয়ালে যা লিখেছিলেন, তা-ও রয়েছে গিয়েছে। বহুল আলোচিত গোপন বন্দীশালা তথা আয়না ঘরের এই ভয়াবহ চিত্র পরিদর্শন কালে প্রত্যক্ষ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ছবি তা দেখা যায়।

গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা দেখেন, কীভাবে সেখানে মানুষকে বন্দী রেখে নির্যাতন করা হতো। এসময় বন্দীজীবন কাটিয়েছেন এমন কয়েকজনের বন্দিজীবনের মর্মন্তুত কথা শোনেন প্রধান উপদেষ্টা।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটটির বেশি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করেছে কমিশন। তাদের ভাষ্য, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‌্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করত।


অধ্যাপক ইউনূস আয়নাঘর পরিদর্শনের সময় ছয়জন উপদেষ্টা, গুম কমিশনের প্রধানসহ পাঁচজন ও গুমের শিকার আট ব্যক্তি তার সঙ্গে ছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিকও সঙ্গে ছিলেন। তবে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়নি (বিটিভি ছাড়া)।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বন্দিশালায় কক্ষগুলো ছোট। যাতায়াতের পথ সরু। বেশিসংখ্যক মানুষ নেওয়া কঠিন ছিল। তিনি সব সাংবাদিককে নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

বন্দিশালা ঘুরে দেখে অধ্যাপক ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, বীভৎস দৃশ্য। নৃশংস কর্মকাণ্ড হয়েছে এখানে। তিনি বলেন, যতটাই শুনি মনে হয়, অবিশ্বাস্য, এটা কি আমাদেরই জগৎ, আমাদের সমাজ? যারা নিগৃহীত হয়েছেন, তারাও আমাদের সমাজেই আছেন। তাদের মুখ থেকে শুনলাম। কী হয়েছে, কোনো ব্যাখ্যা নেই।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভুক্তভোগীদের বিনা কারণে, বিনা দোষে উঠিয়ে আনা হতো। সন্ত্রাসী, জঙ্গি বলে এখানে ঢুকিয়ে রাখা হতো। তিনি বলেন, এই রকম টর্চার সেল (নির্যাতনকেন্দ্র) দেশজুড়ে আছে। ধারণা ছিল এখানে কয়েকটা আছে। এখন শুনছি বিভিন্ন ভার্সনে (সংস্করণে) দেশজুড়ে আছে। সংখ্যাও নিরূপণ করা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হাসিনার সরকারের গোপন বন্দীশালায় নির্যাতনকেন্দ্র

আপডেট সময় : ১১:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গড়ে ওঠা বন্দীশালা তথা আয়নাঘর নামে পরিচিত গোপন নির্যাতনকেন্দ্র (টর্চার সেল) পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে বন্দিদের আটকে রাখার জন্য খুপড়ি, বৈদ্যুতিক চেয়ারসহ নির্যাতনের যন্ত্র, আটকে রাখা ব্যক্তিদের বিভিন্ন লেখা ও সাংকেতিক চিহ্ন দেখা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে গোপন বন্দিশালায় বিনা বিচারে মানুষকে আটকে রাখা হতো। চালানো হতো অকথ্য নির্যতন। যার প্রমাণ মেরেল খুপরি ঘর, নির্যতনের চেয়ার, বসবাস অযোগ্য ছোট ছোট ঘর। দেওয়ালে দেওয়ালে নির্যাতিত মানুষের নানা কথা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর অনেকেই বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান। গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‌্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি, সিটিটিসি, সিআইডি, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে কমিশনে ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। তার মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেছে কমিশন। তাতে ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী ফিরে এসেছেন। বাকি ২৭ শতাংশ (অন্তত ২০৪ জন ব্যক্তি) নিখোঁজ।

বুধবার ঢাকার আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরায় তিনটি গোপনবন্দীশালা পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসব বন্দীশালার দুটি বন্দিশালা পরিচালনা করত র‌্যাব, একটি ডিজিএফআই।

পরিদর্শন শেষে গোপন বন্দিশালাকে বীভৎসতা ও নৃশংসতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস বলেন, আইয়ামে জাহেলিয়া বলে একটা কথা আছে না, গত সরকার (হাসিনা সরকার) আইয়ামে জাহেলিয়া প্রতিষ্ঠা করে গেছে। এই গোপন বন্দিশালা তার একটি নমুনা।


গোপন বন্দিশালার খুপরি ঘর। আলো-বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই। রয়েছে সজ্জিত নির্যাতনের চেয়ার। এসব বন্দীশালায় থাকা মানুষেরা দেয়ালে যা লিখেছিলেন, তা-ও রয়েছে গিয়েছে। বহুল আলোচিত গোপন বন্দীশালা তথা আয়না ঘরের এই ভয়াবহ চিত্র পরিদর্শন কালে প্রত্যক্ষ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ছবি তা দেখা যায়।

গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা দেখেন, কীভাবে সেখানে মানুষকে বন্দী রেখে নির্যাতন করা হতো। এসময় বন্দীজীবন কাটিয়েছেন এমন কয়েকজনের বন্দিজীবনের মর্মন্তুত কথা শোনেন প্রধান উপদেষ্টা।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটটির বেশি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করেছে কমিশন। তাদের ভাষ্য, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‌্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করত।


অধ্যাপক ইউনূস আয়নাঘর পরিদর্শনের সময় ছয়জন উপদেষ্টা, গুম কমিশনের প্রধানসহ পাঁচজন ও গুমের শিকার আট ব্যক্তি তার সঙ্গে ছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিকও সঙ্গে ছিলেন। তবে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়নি (বিটিভি ছাড়া)।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বন্দিশালায় কক্ষগুলো ছোট। যাতায়াতের পথ সরু। বেশিসংখ্যক মানুষ নেওয়া কঠিন ছিল। তিনি সব সাংবাদিককে নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

বন্দিশালা ঘুরে দেখে অধ্যাপক ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, বীভৎস দৃশ্য। নৃশংস কর্মকাণ্ড হয়েছে এখানে। তিনি বলেন, যতটাই শুনি মনে হয়, অবিশ্বাস্য, এটা কি আমাদেরই জগৎ, আমাদের সমাজ? যারা নিগৃহীত হয়েছেন, তারাও আমাদের সমাজেই আছেন। তাদের মুখ থেকে শুনলাম। কী হয়েছে, কোনো ব্যাখ্যা নেই।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভুক্তভোগীদের বিনা কারণে, বিনা দোষে উঠিয়ে আনা হতো। সন্ত্রাসী, জঙ্গি বলে এখানে ঢুকিয়ে রাখা হতো। তিনি বলেন, এই রকম টর্চার সেল (নির্যাতনকেন্দ্র) দেশজুড়ে আছে। ধারণা ছিল এখানে কয়েকটা আছে। এখন শুনছি বিভিন্ন ভার্সনে (সংস্করণে) দেশজুড়ে আছে। সংখ্যাও নিরূপণ করা যায়নি।