ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন কমিশনের রিপোর্ট আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরান যুদ্ধে সমর্থন নেই’ মার্কিন  এনসিটিসি প্রধানের পদত্যাগ পহেলা বৈশাখে  কৃষক কার্ড বিতরণের যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মহাসড়ক উন্নয়নে দ্রুত সুখবরের আশ্বাস, গোমা সেতু উদ্বোধন শিলাবৃষ্টির আতঙ্কে ধর্মপাশা-মধ্যনগরের কৃষক, ফসল রক্ষায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকের কল্যাণে দোয়া ও ইফতার, ভোলায় মানবিকতা ও সংহতির অনন্য আয়োজন কোদাল হাতে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিতে স্বনির্ভরতার ডাক ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান ভারতের ‘বৃক্ষমাতা’ তুলসী গৌড়া, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের অনন্য নজির ঈদে মহাসড়কে কড়াকড়ি, ৭ দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক-লরি চলাচল

মেঘনানদীতে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছের মোড়ক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫ ২০১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকার কারখানার বর্জ্যে মেঘনার পানি বেশি মাত্রায় দূষিত হওয়ায় এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এমন ঘটনা

মেঘনা নদীর ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল পরিমাণ মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। স্রোত আর ঢেউয়ে এসব মরা মাছ ও প্রাণী তীরে এসে জমা হচ্ছে। সপ্তাহজুড়ে এ ঘটনায় দেশি জাতের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী হুমকিতে রয়েছে। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকার কারখানার বর্জ্যে মেঘনার পানি বেশি মাত্রায় দূষিত হওয়ায় এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এমন ঘটনা।

রবিবারও দেখা গেছে, মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর, চরকালিয়া, বাবুরবাজার, দশানী, ছটাকি, ষাটনল, মোহনপুর ও এখলাশপুর এলাকায় দেখা যায় নদীর পাড় ও তীরে রাশি রাশি মরা মাছ। নদীর মাঝখানে ও এক পাশে ভেসে উঠছে বিপুল হারে দেশি জাতের মরা মাছ।

স্রোত ও ঢেউয়ের চাপে ভেসে ওঠা এসব মরা মাছ জমা হচ্ছে নদীর তীরে। মরা মাছের মধ্যে চেউয়া, সেলেং, মেদমাছ, চিংড়ি, আইড়, কাঁচকি, বাইলা, চাপিলা ছাড়াও বিভিন্ন জলজ প্রাণী।

স্থায়ী বাসিন্দারা মতে, মেঘনার এখলাশপুর থেকে ছটাকি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভেসে উঠছে এসব মরা মাছ ও জলজ প্রাণী। মরা মাছ ও প্রাণী পানিদূষণের মাত্রা বাড়াচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। এতে নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষ বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে এলাকার ছোট ছোট শিশু ও স্থানীয় লোকজনের কেউ কেউ তীর থেকে এসব মরা মাছ কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ষাটনল স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সপ্তাহ ধরে মেঘনার তীরে বিপুল পরিমাণ মরা মাছ জমা হচ্ছে। মরা মাছের দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মরা মাছ ও জলজ প্রাণীর গন্ধে নদীপাড়ে থাকা যাচ্ছে না। পানিতে মরা মাছের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পানি দূষিত হচ্ছে। মরা মাছ ও পানির দূষণ একাকার হয়ে দুর্গন্ধের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কারখানার বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা সেখানকার নদীতে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য মেশানো পানি মেঘনায় মিশে যাওয়ায় মেঘনার মিঠা পানিও দূষিত হচ্ছে। পানিতে কলকারখানার বর্জ্য মিশে যাওয়ায় পানির পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে।

পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা একেবারে কমে যাওয়ায় এবং অধিক মাত্রায় পানিদূষণের ফলে ব্যাপক হারে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দূষিত পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত পানি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মেঘনানদীতে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছের মোড়ক

আপডেট সময় : ০৯:৫১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

 

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকার কারখানার বর্জ্যে মেঘনার পানি বেশি মাত্রায় দূষিত হওয়ায় এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এমন ঘটনা

মেঘনা নদীর ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল পরিমাণ মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। স্রোত আর ঢেউয়ে এসব মরা মাছ ও প্রাণী তীরে এসে জমা হচ্ছে। সপ্তাহজুড়ে এ ঘটনায় দেশি জাতের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী হুমকিতে রয়েছে। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকার কারখানার বর্জ্যে মেঘনার পানি বেশি মাত্রায় দূষিত হওয়ায় এবং পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এমন ঘটনা।

রবিবারও দেখা গেছে, মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর, চরকালিয়া, বাবুরবাজার, দশানী, ছটাকি, ষাটনল, মোহনপুর ও এখলাশপুর এলাকায় দেখা যায় নদীর পাড় ও তীরে রাশি রাশি মরা মাছ। নদীর মাঝখানে ও এক পাশে ভেসে উঠছে বিপুল হারে দেশি জাতের মরা মাছ।

স্রোত ও ঢেউয়ের চাপে ভেসে ওঠা এসব মরা মাছ জমা হচ্ছে নদীর তীরে। মরা মাছের মধ্যে চেউয়া, সেলেং, মেদমাছ, চিংড়ি, আইড়, কাঁচকি, বাইলা, চাপিলা ছাড়াও বিভিন্ন জলজ প্রাণী।

স্থায়ী বাসিন্দারা মতে, মেঘনার এখলাশপুর থেকে ছটাকি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভেসে উঠছে এসব মরা মাছ ও জলজ প্রাণী। মরা মাছ ও প্রাণী পানিদূষণের মাত্রা বাড়াচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। এতে নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষ বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে এলাকার ছোট ছোট শিশু ও স্থানীয় লোকজনের কেউ কেউ তীর থেকে এসব মরা মাছ কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ষাটনল স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সপ্তাহ ধরে মেঘনার তীরে বিপুল পরিমাণ মরা মাছ জমা হচ্ছে। মরা মাছের দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মরা মাছ ও জলজ প্রাণীর গন্ধে নদীপাড়ে থাকা যাচ্ছে না। পানিতে মরা মাছের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পানি দূষিত হচ্ছে। মরা মাছ ও পানির দূষণ একাকার হয়ে দুর্গন্ধের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কারখানার বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা সেখানকার নদীতে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য মেশানো পানি মেঘনায় মিশে যাওয়ায় মেঘনার মিঠা পানিও দূষিত হচ্ছে। পানিতে কলকারখানার বর্জ্য মিশে যাওয়ায় পানির পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে।

পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা একেবারে কমে যাওয়ায় এবং অধিক মাত্রায় পানিদূষণের ফলে ব্যাপক হারে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দূষিত পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত পানি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।