ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারল্য  সকট মোকাবিলায় ২,৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক  অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হত্যার অভিযোগে স্বামী কারাগারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, ঘোষণা পাকিস্তানের সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হয়ে যেতো: নাঈম হাসান আদ্-দ্বীনের কোটি টাকার চাপ উপেক্ষা করে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুণীজনদের জীবদ্দশায় সম্মান জানালে সমাজসেবায় উৎসাহ বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর শনিবার, উন্নয়ন প্রত্যাশায় মুখিয়ে স্থানীয়রা যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সম্মত বিজিবি-বিএসএফ, নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠক

কবি নজরুল ভার্সিটির ভিসি সৌমিত্র শেখরের দুর্নীতি তদন্তে দুদক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ৩০২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, এমপিদের ডিও লেটারসহ নানা গোপন নথি পেয়েছে। দুদকের তদন্তাধীন ব্যক্তি হওয়ায় এগুলো এখন উন্মুক্ত করা যাবে না বলে জানায় প্রক্টরিয়াল বডি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যোবিদায়ি উপাচার্য সৌমিত্র শেখরের দুর্নীতি ও ভর্তি জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে বলা হচ্ছে, ভর্তি জালিয়াতিতে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে মাঠে নেমেছে।

দুদককে তদন্ত কওে মামলা এবং তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

গূত্রের খবর, অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভিসি হিসেবে যোগদানের পরপরই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেবার তার বিরুদ্ধে ভর্তি জালিয়াতির একাধিক অভিযোগ উঠলেও ধূর্ত শেখর নিজেকে সেখান থেকে সরিয়ে নামমাত্র তদন্ত কমিটি করে তা ধামাচাপা দেন।

ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি সেলিম আল মামুনের মাধ্যমে তিনি এই জালিয়াতি করতেন বলে জানায় একাধিক সূত্র। সহযোগী হিসেবে কাজ করেন ওএমআর প্যাকেজিং কমিটির আহ্বায়ক সদস্য সচিব।

সৌমিত্র শেখর নিজের বেডরুমেই রেখে দিতেন ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর ফরম। প্রতিবার ভর্তি পরীক্ষার সময় সেখানে নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীদের ওএমআর পূরণ করিয়ে ভর্তি পরীক্ষার সব ওএমআরের সঙ্গে সিলগালা করে ভর্তি জালিয়াতি করতেন।

গত ১৭ অক্টোবর উপাচার্যের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে এসব কাগজপত্র জব্দ করে প্রশাসন।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, এমপিদের ডিও লেটারসহ নানা গোপন নথি পেয়েছে। দুদকের তদন্তাধীন ব্যক্তি হওয়ায় এগুলো এখন উন্মুক্ত করা যাবে না বলে জানায় প্রক্টরিয়াল বডি।

এ বিষয়ে প্যাকেজিং কমিটির সদস্যসচিব মাসুদ রানা সংবাতদমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাজ হলো ওএমআর শিট সংগ্রহ করে পরীক্ষা গ্রহণের পর হিসাব করে সেগুলো ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির কাছে হস্তান্তর করা।

এরপর তারা এটা কিভাবে কী করেছেন তা বলতে পারব না। এই কমিটির আরেক সদস্য আতিকুর রহমান খান বলেন, আমরা পরীক্ষার পর যখন ওএমআর প্যাকেট করতাম, তখন কমিটির সদস্যসচিব বলেন, ভিসি কিছু ওএমআর চেয়েছেন, এটা পাঠাতে হবে। এতে আমরা উপস্থিত সবাই আশ্চর্য হলাম যে ওএমআর ভিসির ওখানে কেন যাবে। পরে এটা কে বা কারা সরবরাহ করেছে তা আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান বলেন, অফিস নথি ভিসির ব্যক্তিগত আলমারিতে থাকতে পারে না।

অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণেই তিনি এসব নিজের বেডরুমে সংরক্ষণ করেছিলেন। আর ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট ভিসির বাসভবনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ড. সেলিম আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা পরীক্ষার পরপরই সিলগালা হয়ে রেজাল্ট প্রস্তুতের জন্য যাওয়ার কথা। আর এটি ভিসির বাসভবনে পাওয়াটা অনেক বড় জালিয়াতি ও অন্যায়। এটি একজন ছাত্রের জীবন ধ্বংস করে দেয়। এ রকম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে যথযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিগত সময়ের সার্বিক অসংগতি তদন্তে কলা অনুষদের ডিন ইমদাদুল হুদাকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কবি নজরুল ভার্সিটির ভিসি সৌমিত্র শেখরের দুর্নীতি তদন্তে দুদক

আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, এমপিদের ডিও লেটারসহ নানা গোপন নথি পেয়েছে। দুদকের তদন্তাধীন ব্যক্তি হওয়ায় এগুলো এখন উন্মুক্ত করা যাবে না বলে জানায় প্রক্টরিয়াল বডি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যোবিদায়ি উপাচার্য সৌমিত্র শেখরের দুর্নীতি ও ভর্তি জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে বলা হচ্ছে, ভর্তি জালিয়াতিতে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে মাঠে নেমেছে।

দুদককে তদন্ত কওে মামলা এবং তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

গূত্রের খবর, অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভিসি হিসেবে যোগদানের পরপরই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেবার তার বিরুদ্ধে ভর্তি জালিয়াতির একাধিক অভিযোগ উঠলেও ধূর্ত শেখর নিজেকে সেখান থেকে সরিয়ে নামমাত্র তদন্ত কমিটি করে তা ধামাচাপা দেন।

ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি সেলিম আল মামুনের মাধ্যমে তিনি এই জালিয়াতি করতেন বলে জানায় একাধিক সূত্র। সহযোগী হিসেবে কাজ করেন ওএমআর প্যাকেজিং কমিটির আহ্বায়ক সদস্য সচিব।

সৌমিত্র শেখর নিজের বেডরুমেই রেখে দিতেন ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর ফরম। প্রতিবার ভর্তি পরীক্ষার সময় সেখানে নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীদের ওএমআর পূরণ করিয়ে ভর্তি পরীক্ষার সব ওএমআরের সঙ্গে সিলগালা করে ভর্তি জালিয়াতি করতেন।

গত ১৭ অক্টোবর উপাচার্যের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে এসব কাগজপত্র জব্দ করে প্রশাসন।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, এমপিদের ডিও লেটারসহ নানা গোপন নথি পেয়েছে। দুদকের তদন্তাধীন ব্যক্তি হওয়ায় এগুলো এখন উন্মুক্ত করা যাবে না বলে জানায় প্রক্টরিয়াল বডি।

এ বিষয়ে প্যাকেজিং কমিটির সদস্যসচিব মাসুদ রানা সংবাতদমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাজ হলো ওএমআর শিট সংগ্রহ করে পরীক্ষা গ্রহণের পর হিসাব করে সেগুলো ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির কাছে হস্তান্তর করা।

এরপর তারা এটা কিভাবে কী করেছেন তা বলতে পারব না। এই কমিটির আরেক সদস্য আতিকুর রহমান খান বলেন, আমরা পরীক্ষার পর যখন ওএমআর প্যাকেট করতাম, তখন কমিটির সদস্যসচিব বলেন, ভিসি কিছু ওএমআর চেয়েছেন, এটা পাঠাতে হবে। এতে আমরা উপস্থিত সবাই আশ্চর্য হলাম যে ওএমআর ভিসির ওখানে কেন যাবে। পরে এটা কে বা কারা সরবরাহ করেছে তা আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান বলেন, অফিস নথি ভিসির ব্যক্তিগত আলমারিতে থাকতে পারে না।

অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণেই তিনি এসব নিজের বেডরুমে সংরক্ষণ করেছিলেন। আর ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট ভিসির বাসভবনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ড. সেলিম আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা পরীক্ষার পরপরই সিলগালা হয়ে রেজাল্ট প্রস্তুতের জন্য যাওয়ার কথা। আর এটি ভিসির বাসভবনে পাওয়াটা অনেক বড় জালিয়াতি ও অন্যায়। এটি একজন ছাত্রের জীবন ধ্বংস করে দেয়। এ রকম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে যথযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিগত সময়ের সার্বিক অসংগতি তদন্তে কলা অনুষদের ডিন ইমদাদুল হুদাকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।