ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

সুদেষ্ণার বারো হাতের গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০২৩ ৪০১ বার পড়া হয়েছে

সুদেষ্ণা স্যানাল রুদ্র

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনিরুদ্ধ

বারো হাতের গল্পটা আমায় শুনিয়েছিল সুদেষ্ণা। সে যখন গল্পটা বলছি, তখন মাঝে মাঝে তার গলা থমে আসছিল। সম্ভবত তার দেহ কাঁপছে উত্তেজনায়। কারণ, নিজের গড়া ইতিহাস বলতে কার না ভালো লাগে? তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সুদেষ্ণা। শান্তিনিকেতনে তখন মিউজিক নিয়ে পড়ছে।

বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন হয়ে ওঠে রবীন্দ্রনাথের পরশে। গাছগাছালির ছায়াঘেরা বোলপুরে শান্তিনিকেতন কেন গড়ে তুলে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ? সে কথায় নাই বা গেলাম। কিন্তু যে গল্পটা শুরু হয়েছিল, সেই গল্পটার সৃষ্টি কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মোলায়েম সুর থেকেই। বারো হাতের মধ্যেও যে জীবনের ছন্দ, চিত্রকল্প এবং জীবনবোধ মিলেমিশে অঙ্গের সৌজন্য বাড়িয়ে দিতে পারে, দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে এক লহমায়, তারই গল্পটা শোনায় সুদেষ্ণা।

 

গল্পটা শোনার পরই তা খুব মনে ধরেছিল। তাই দ্রুতই লেখাটা শেষ করি। কিন্তু এই লেখাটা আরও কয়েকদিন আগেই প্রকাশের কথা থাকলেও একটি তথ্যচিত্রে কাজে বেড়িয়ে যেতে হয় প্রায় তিনশ’ মাইল দূরে। সেখান থেকে ফিরে এসেই প্রকাশের জন্য ছেড়ে দেওয়া।

‘মানুষের হাত ধরেই ইতিহাস পা বাড়ায়’, এটাই তার গল্প। সুদেষ্ণার গল্পরা মানুষের গায়ে গায়ে চড়ে বেড়ায় পরম মমতায়। এমন একটা জীবনবন্দনার সৃষ্টি সেই শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পরিবেশ ও সুর থেকে। শিল্প যখন মানুষের প্রার্থিব বিষয়, তখন তো তাকে বরণের কোন বিকল্প নেই। আজ কত বছর এই শিল্প বন্দনায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে সুদেষ্ণা সে নিয়ে  দু’চার কথা বলা দরকার।

একটা সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান সুদেষ্ণা। স্কুল জীবন থেকেই নাচের প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ । বাবা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। কিন্তু মেয়ের এমন আগ্রহের জায়গাটা কাজে লাগানোর ভাবনা তার মাথায় যে ডুকেছে, সে আর তাকে নিস্তার দিচ্ছে না। বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া শেষ করে বাঙালি আর দশটা মেয়ের মতো তাকেও ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়।

এরই মধ্যে অনেকটা সময় কেটে গেছে। গান নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু মনটা ভরছে না। একটা বিষয় সব সময় মাথায় ঘুরে বেড়াতো। অবশেষে বন্ধু অজন্তা হালদারকে নিয়ে ‘নন্দরানী’ প্রতিষ্ঠা। এখানে কি হয়?

আমরা যখন শান্তিনিকেতনে পড়তাম, তখন সেখানে হাতের কাজের দারুণ দারুণ শাড়ি পাওয়া যেতো। কাঁথা স্টিচ। দৃষ্টি নন্দন শাড়িগুলোতে আমার চোখ আটকে যেতো। অবশেষে অজন্তাকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া। দু’জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘নন্দরাণী’ এখন বেশ চলছে। পরিচিতি পাচ্ছে। এখানের হাতের কাজের শাড়ি নিয়েই ভারতের প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় যাচ্ছে, ‘নন্দরাণী’। ওখানে আগরতলা  প্রেসক্লাবে তিনদিনের এক্সিবিশনে যোগ দেবে সুদেষ্ণারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুদেষ্ণার বারো হাতের গল্প

আপডেট সময় : ০৯:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০২৩

অনিরুদ্ধ

বারো হাতের গল্পটা আমায় শুনিয়েছিল সুদেষ্ণা। সে যখন গল্পটা বলছি, তখন মাঝে মাঝে তার গলা থমে আসছিল। সম্ভবত তার দেহ কাঁপছে উত্তেজনায়। কারণ, নিজের গড়া ইতিহাস বলতে কার না ভালো লাগে? তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সুদেষ্ণা। শান্তিনিকেতনে তখন মিউজিক নিয়ে পড়ছে।

বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন হয়ে ওঠে রবীন্দ্রনাথের পরশে। গাছগাছালির ছায়াঘেরা বোলপুরে শান্তিনিকেতন কেন গড়ে তুলে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ? সে কথায় নাই বা গেলাম। কিন্তু যে গল্পটা শুরু হয়েছিল, সেই গল্পটার সৃষ্টি কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মোলায়েম সুর থেকেই। বারো হাতের মধ্যেও যে জীবনের ছন্দ, চিত্রকল্প এবং জীবনবোধ মিলেমিশে অঙ্গের সৌজন্য বাড়িয়ে দিতে পারে, দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে এক লহমায়, তারই গল্পটা শোনায় সুদেষ্ণা।

 

গল্পটা শোনার পরই তা খুব মনে ধরেছিল। তাই দ্রুতই লেখাটা শেষ করি। কিন্তু এই লেখাটা আরও কয়েকদিন আগেই প্রকাশের কথা থাকলেও একটি তথ্যচিত্রে কাজে বেড়িয়ে যেতে হয় প্রায় তিনশ’ মাইল দূরে। সেখান থেকে ফিরে এসেই প্রকাশের জন্য ছেড়ে দেওয়া।

‘মানুষের হাত ধরেই ইতিহাস পা বাড়ায়’, এটাই তার গল্প। সুদেষ্ণার গল্পরা মানুষের গায়ে গায়ে চড়ে বেড়ায় পরম মমতায়। এমন একটা জীবনবন্দনার সৃষ্টি সেই শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পরিবেশ ও সুর থেকে। শিল্প যখন মানুষের প্রার্থিব বিষয়, তখন তো তাকে বরণের কোন বিকল্প নেই। আজ কত বছর এই শিল্প বন্দনায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে সুদেষ্ণা সে নিয়ে  দু’চার কথা বলা দরকার।

একটা সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান সুদেষ্ণা। স্কুল জীবন থেকেই নাচের প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ । বাবা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। কিন্তু মেয়ের এমন আগ্রহের জায়গাটা কাজে লাগানোর ভাবনা তার মাথায় যে ডুকেছে, সে আর তাকে নিস্তার দিচ্ছে না। বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া শেষ করে বাঙালি আর দশটা মেয়ের মতো তাকেও ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়।

এরই মধ্যে অনেকটা সময় কেটে গেছে। গান নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু মনটা ভরছে না। একটা বিষয় সব সময় মাথায় ঘুরে বেড়াতো। অবশেষে বন্ধু অজন্তা হালদারকে নিয়ে ‘নন্দরানী’ প্রতিষ্ঠা। এখানে কি হয়?

আমরা যখন শান্তিনিকেতনে পড়তাম, তখন সেখানে হাতের কাজের দারুণ দারুণ শাড়ি পাওয়া যেতো। কাঁথা স্টিচ। দৃষ্টি নন্দন শাড়িগুলোতে আমার চোখ আটকে যেতো। অবশেষে অজন্তাকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া। দু’জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘নন্দরাণী’ এখন বেশ চলছে। পরিচিতি পাচ্ছে। এখানের হাতের কাজের শাড়ি নিয়েই ভারতের প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় যাচ্ছে, ‘নন্দরাণী’। ওখানে আগরতলা  প্রেসক্লাবে তিনদিনের এক্সিবিশনে যোগ দেবে সুদেষ্ণারা।