কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ঘূর্ণিঝড় মোকা সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য জানান
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা ঘিরে কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। উপকূল জুড়ে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসাবে ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নামানো হয়েছে। কক্সবাজারের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের আশ্রয় শেল্টারে নেওয়া হয়েছে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার ৬টায় কক্সবাজার উপকূল থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল। পূর্বাভাসকৃত গতিপথ বজায় থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি রবিবার দুপুর নাগাদ কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলের মাঝামাঝি দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ এর আগে থেকেই উপকূলে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান শনিবার তার দপ্তরে জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন। এসময় তিনি ঘূর্ণিঝড় মোখাকে এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোন বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, কক্সবাজার বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৮ মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলায় ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
গত বুধবার মোখা সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে বলা হলেও মোখা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়। সুপার সাইক্লোন হতে হলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার হতে হবে। সেক্ষেত্রে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের একটানা গতিবেগ ২০০ কিলোমিটারের কাছাকছি। ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে উপকূলে ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
অতিবর্ষণে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক রোহিঙ্গা শিবিরে দায়িত্ব পালন করছে।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশনায় ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রক দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে। যথাযথ আইনি ও নীতিগত কাঠামো, উপযুক্ত পরিকল্পনা, প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত জনবল, যথেষ্ট মানবিক সহায়তা, নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর পাশাপাশি আগাম সতর্কতার কারণে বিগত সময়ের মতো আমরা এই ঘূর্ণিঝড়টিও সফলভাবে মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সকল নৌযান চলাচল ও কক্সবাজারে বিমান ওঠা নামা বন্ধ রাখা হয়েছে।
নয়াদিল্লি ভিত্তিক এই সংস্থার আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. তৃষানু বণিক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা বর্তমানে ৮ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলের দিকে এগোচ্ছে।

একই কথা জানিয়েছেন ভারতের আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞানী ড. আনন্দ কুমার দাশও। তার মতে, সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছে মোখা। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ গতিবেগ কিছুটা কমে ২১০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে। এদিন রাতের প্রথম দিকে গতিবেগ আরও কমে ২০০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে। এরপর তা আরও কমে উপকূলে ১৭৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি ঝরাবে। আর বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস হতে পারে। শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।



















