ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিবির জালে এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী লম্বা ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী ,সচিবালয়ে ফিরল কর্মচাঞ্চল্য ট্রাম্পের হামলা স্থগিত ঘোষণায় মুহূর্তেই কমল তেলের দাম প্রাচীন ইতিহাসের নীরব অনুসন্ধানী ও লোকসাহিত্য গবেষক হাবিবুল্লা পাঠান ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখো মানবঢল, মঙ্গলবার খুলছে অফিস-আদালত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত, নতুন আলোচনার পথে ট্রাম্প মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান গবেষণায় সরকারের বড় উদ্যোগ, গবেষকদের জন্য ৫-২৫ লাখ টাকা অনুদান ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, সতর্কসংকেতে থমথমে পরিস্থিতি ২২ দিনে চট্টগ্রামে ২৫ জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য খালাস জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কায় মালিকরা

প্রেস কাউন্সিল আরও শক্তিশালী হবে : তথ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ : ছবি সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যুগের প্রয়োজনে প্রেস কাউন্সিল আরও শক্তিশালী হবে। অনলাইন পত্রিকাগুলোও কাউন্সিলের আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার তোপখানা রোডে কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী এর আগে কাউন্সিল চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সভাপতিত্বে কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে মোজাফফর হোসেন পল্টু, ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও এম জি কিবরিয়া চৌধুরী সভায় বক্তব্য রাখেন।

প্রেস কাউন্সিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্র ন্যায়-নীতি ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত গভীরে প্রোথিত করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে সংবাদপত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একইসঙ্গে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা যাতে একটি জুডিসিয়াল বোর্ডের কাছে গিয়ে তাদের অনুযোগ উপস্থাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে তিনি এ প্রেস কাউন্সিল গঠন করেন।

যুগের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে সংবাদমাধ্যম শুধু প্রিন্ট মিডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যখন প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল, তখন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ছিল না এবং এত সংবাদপত্রও ছিল না। ফলে প্রেস কাউন্সিল তার আইন অনুসারে সংবাদপত্র ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে না।

অনলাইন পত্রিকা ও পত্রিকার অনলাইন ভার্সনগুলোকে আওতায় আনা ও প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাউন্সিলের সদস্যরাই কয়েক বছর ধরে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি খসড়া আইন চূড়ান্ত করেছেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের বেশির ভাগ সদস্য সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও পত্রিকার সম্পাদক। তারাই এটি চূড়ান্ত করেছেন। কিন্তু খসড়া চূড়ান্ত হয়ে যখন আইন প্রণয়নের দিকে যাচ্ছিল, তখন এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। সব দেশেই আইন সংশোধন করা হয়। অথচ বাংলাদেশে আইন যুগোপযোগী করতে গেলেই একটা পক্ষ এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। আশা করি, প্রকৃত সাংবাদিকরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।

যারা বিরোধিতা করছেন, তাদের নিয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে বসতে বলেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আলাপ-আলোচনা করলে ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হবে। কারণ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা মানে সাংবাদিকদের শক্তিশালী করা।

বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, এখন ফেসবুক পেজ খুলে সেটিকেও সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রচার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই আবার সাংবাদিক পরিচয় দেন। গ্রামেগঞ্জে এখন যে অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ… আবার একটা ক্যামেরা নিয়ে ওটাই একটা মিডিয়া পরিচয় দিচ্ছে, এটিই বাস্তবতা। ফলে কোনটি প্রকৃত সংবাদমাধ্যম এবং কে সাংবাদিক, তা নিয়ে বিরাট বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এগুলোর একটা সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।

যারা সত্যিকারের সাংবাদিক তারা এর সঙ্গে কখনই যুক্ত নয়। সাংবাদিকরাও চায় এগুলো থেকে মুক্তি। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবিও এটি। আমি আপনাদের দাবির সঙ্গে একমত। এ জন্য সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন প্রয়োজন। প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়েই এটি করা বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবাদমাধ্যমবান্ধব। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে, সেটি অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদাহরণ। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিকাশ অপরিহার্য। এ লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সরকার কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রেস কাউন্সিল আরও শক্তিশালী হবে : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যুগের প্রয়োজনে প্রেস কাউন্সিল আরও শক্তিশালী হবে। অনলাইন পত্রিকাগুলোও কাউন্সিলের আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার তোপখানা রোডে কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী এর আগে কাউন্সিল চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সভাপতিত্বে কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে মোজাফফর হোসেন পল্টু, ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও এম জি কিবরিয়া চৌধুরী সভায় বক্তব্য রাখেন।

প্রেস কাউন্সিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্র ন্যায়-নীতি ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত গভীরে প্রোথিত করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে সংবাদপত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একইসঙ্গে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা যাতে একটি জুডিসিয়াল বোর্ডের কাছে গিয়ে তাদের অনুযোগ উপস্থাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে তিনি এ প্রেস কাউন্সিল গঠন করেন।

যুগের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে সংবাদমাধ্যম শুধু প্রিন্ট মিডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যখন প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল, তখন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ছিল না এবং এত সংবাদপত্রও ছিল না। ফলে প্রেস কাউন্সিল তার আইন অনুসারে সংবাদপত্র ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে না।

অনলাইন পত্রিকা ও পত্রিকার অনলাইন ভার্সনগুলোকে আওতায় আনা ও প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাউন্সিলের সদস্যরাই কয়েক বছর ধরে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি খসড়া আইন চূড়ান্ত করেছেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের বেশির ভাগ সদস্য সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও পত্রিকার সম্পাদক। তারাই এটি চূড়ান্ত করেছেন। কিন্তু খসড়া চূড়ান্ত হয়ে যখন আইন প্রণয়নের দিকে যাচ্ছিল, তখন এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। সব দেশেই আইন সংশোধন করা হয়। অথচ বাংলাদেশে আইন যুগোপযোগী করতে গেলেই একটা পক্ষ এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। আশা করি, প্রকৃত সাংবাদিকরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।

যারা বিরোধিতা করছেন, তাদের নিয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে বসতে বলেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আলাপ-আলোচনা করলে ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হবে। কারণ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা মানে সাংবাদিকদের শক্তিশালী করা।

বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, এখন ফেসবুক পেজ খুলে সেটিকেও সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রচার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই আবার সাংবাদিক পরিচয় দেন। গ্রামেগঞ্জে এখন যে অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ… আবার একটা ক্যামেরা নিয়ে ওটাই একটা মিডিয়া পরিচয় দিচ্ছে, এটিই বাস্তবতা। ফলে কোনটি প্রকৃত সংবাদমাধ্যম এবং কে সাংবাদিক, তা নিয়ে বিরাট বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এগুলোর একটা সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।

যারা সত্যিকারের সাংবাদিক তারা এর সঙ্গে কখনই যুক্ত নয়। সাংবাদিকরাও চায় এগুলো থেকে মুক্তি। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবিও এটি। আমি আপনাদের দাবির সঙ্গে একমত। এ জন্য সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন প্রয়োজন। প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়েই এটি করা বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবাদমাধ্যমবান্ধব। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে, সেটি অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদাহরণ। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিকাশ অপরিহার্য। এ লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সরকার কাজ করছে।