ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

75th death anniversary of Mahatma Gandhi  : মহাত্মা গান্ধীর ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী :  গান্ধী ও বাস্তুসংস্থানবাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩ ২৬৪ বার পড়া হয়েছে

বাপুর মৃত্যু দিনে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত সমসাময়িক বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ 

৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের নোয়াখালী ও জামালপুর গান্ধী আশ্রমে মহাত্মা গান্ধীর ৭৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা নোয়াখালীতে গান্ধী আশ্রম পরিদর্শন করেন এবং গান্ধীজির ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাপুর মৃত্যু দিন ঘিরে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত সমসাময়িক বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক আলোচনায় হাইকমিশনার অংশ নেন। ট্রাস্টের সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদগণ মতবিনিময় সভায় যোগ দেন|

গান্ধীকে প্রায়শই প্রাথমিক পরিবেশবাদী হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যদিও তিনি বাস্তুবিদ্যা এবং পরিবেশের মতো শব্দ ব্যবহার করেননি। কিন্তু তার জীবন-যাপন, হিন্দ স্বরাজ, সত্যাগ্রহ, চরকা, ত্যাগ, সমস্ত প্রাণীজগতের একীভূত ভাবনা, বিজ্ঞান চেতনা সকল কিছুই আধুনিক ধারণযোগ্য উন্নয়নের নীতিকে তুলে ধরে।

খ্যাতনামা গভীর বাস্তুবিজ্ঞানী আর্নে নেস তার পরিবেশগত নীতিগুলি তৈরি করার আগে গান্ধীর আদর্শ অধ্যয়ন করেছিলেন। গান্ধী কখনই উন্নয়ন শব্দটি ব্যবহার করেননি এবং তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন কার্বন পদচিহ্ন কম করা বা carbon footprint হ্রাস করার নীতিকে তুলে ধরে। এখানে মৌলিক চাহিদার সন্তুষ্টি ভোগবাদের পরিবর্তে প্রাধান্য পেয়েছে, যা অনেক পরিবেশবিদদের কাছে অগ্রগতির বৈশিষ্ট্য হিসাবে আছে।

গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গি একটি অ-বস্তুবাদী এবং অ-শোষণমূলক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে যা মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে আন্তঃনির্ভরতাকে তুলে ধরে করে যা তাঁর আগেই আমরা রবি ঠাকুরের প্রতি লেখায় পাই।

স্বদেশী সম্পর্কে গান্ধীর ধারণাগুলি প্রকৃতির উপর আক্রমণাত্মক না হয়ে স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ সংস্থানগুলির ব্যবহারের পরামর্শ দেয় যা ধারণ যোগ্যতার দৃষ্টিকেই তুলে ধরে। তিনি আধুনিক সভ্যতা, শিল্পায়ন ও নগরায়নের নিন্দা করেন এবং কৃষি ও কুটির শিল্পের উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থার আহ্বান জানান।

এর মানে কিন্তু উন্নয়ন হীনতা নয়।বরং উন্নয়নের নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করে তার ইতিবাচকতা বৃদ্ধিকরণ মানব প্রকৃতির ভারসাম্যের মাধ্যমে। সংক্ষেপে, ভারতের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকৃতি, বন, নদী ইত্যাদির সৌন্দর্য ধ্বংসের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে একটি টেকসই জীবনযাপনের জন্য শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল বলে অনেক প্রকৃতিবিদ মনে করেন। আধুনিক ঘন সবুজ পরিবেশবাদ গান্ধীজির দর্শনকে অনুসরণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

75th death anniversary of Mahatma Gandhi  : মহাত্মা গান্ধীর ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী :  গান্ধী ও বাস্তুসংস্থানবাদ

আপডেট সময় : ০৮:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ 

৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের নোয়াখালী ও জামালপুর গান্ধী আশ্রমে মহাত্মা গান্ধীর ৭৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা নোয়াখালীতে গান্ধী আশ্রম পরিদর্শন করেন এবং গান্ধীজির ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাপুর মৃত্যু দিন ঘিরে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত সমসাময়িক বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক আলোচনায় হাইকমিশনার অংশ নেন। ট্রাস্টের সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদগণ মতবিনিময় সভায় যোগ দেন|

গান্ধীকে প্রায়শই প্রাথমিক পরিবেশবাদী হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যদিও তিনি বাস্তুবিদ্যা এবং পরিবেশের মতো শব্দ ব্যবহার করেননি। কিন্তু তার জীবন-যাপন, হিন্দ স্বরাজ, সত্যাগ্রহ, চরকা, ত্যাগ, সমস্ত প্রাণীজগতের একীভূত ভাবনা, বিজ্ঞান চেতনা সকল কিছুই আধুনিক ধারণযোগ্য উন্নয়নের নীতিকে তুলে ধরে।

খ্যাতনামা গভীর বাস্তুবিজ্ঞানী আর্নে নেস তার পরিবেশগত নীতিগুলি তৈরি করার আগে গান্ধীর আদর্শ অধ্যয়ন করেছিলেন। গান্ধী কখনই উন্নয়ন শব্দটি ব্যবহার করেননি এবং তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন কার্বন পদচিহ্ন কম করা বা carbon footprint হ্রাস করার নীতিকে তুলে ধরে। এখানে মৌলিক চাহিদার সন্তুষ্টি ভোগবাদের পরিবর্তে প্রাধান্য পেয়েছে, যা অনেক পরিবেশবিদদের কাছে অগ্রগতির বৈশিষ্ট্য হিসাবে আছে।

গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গি একটি অ-বস্তুবাদী এবং অ-শোষণমূলক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে যা মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে আন্তঃনির্ভরতাকে তুলে ধরে করে যা তাঁর আগেই আমরা রবি ঠাকুরের প্রতি লেখায় পাই।

স্বদেশী সম্পর্কে গান্ধীর ধারণাগুলি প্রকৃতির উপর আক্রমণাত্মক না হয়ে স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ সংস্থানগুলির ব্যবহারের পরামর্শ দেয় যা ধারণ যোগ্যতার দৃষ্টিকেই তুলে ধরে। তিনি আধুনিক সভ্যতা, শিল্পায়ন ও নগরায়নের নিন্দা করেন এবং কৃষি ও কুটির শিল্পের উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থার আহ্বান জানান।

এর মানে কিন্তু উন্নয়ন হীনতা নয়।বরং উন্নয়নের নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করে তার ইতিবাচকতা বৃদ্ধিকরণ মানব প্রকৃতির ভারসাম্যের মাধ্যমে। সংক্ষেপে, ভারতের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকৃতি, বন, নদী ইত্যাদির সৌন্দর্য ধ্বংসের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে একটি টেকসই জীবনযাপনের জন্য শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল বলে অনেক প্রকৃতিবিদ মনে করেন। আধুনিক ঘন সবুজ পরিবেশবাদ গান্ধীজির দর্শনকে অনুসরণ করে।