ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

Myanmar : অস্ত্র তৈরিতে ১৩ দেশের সহায়তা পাচ্ছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘সর্বশেষ অভ্যুত্থানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবেই সামরিক বাহিনীর হাতে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ১০ গুণ বেশি বলে মনে করা হয়’

 

অনলাইন ডেস্ক

১৩টি দেশের সহায়তা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অস্ত্র তৈরি করছে। আর সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, সামরিক বাহিনীর বিরোধীতাকারী মানুষের বিরুদ্ধে। সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ১৩টি দেশের প্রতিষ্ঠান।

পশ্চিমাদের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, ভারত ও জাপানের কোম্পানিগুলোও এ তালিকায় থাকার তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে তৈরি এসব অস্ত্র সামরিক বাহিনীর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সহিংসতায় আচ্ছন্ন। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। অভ্যুত্থানবিরোধীরা প্রান্তীয় নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়ে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতেও জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে বলে বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দেশেই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করতে পারে, আর সেগুলো বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক বিশেষ প্রতিবেদক ইয়াংহি লি ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো রাষ্ট্র মিয়ানমারকে কখনো আক্রমণ করেনি আর মিয়ানমার অস্ত্র রপ্তানিও করে না। ১৯৫০ সাল থেকেই তারা নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করে আসছে।

সর্বশেষ অভ্যুত্থানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবেই সামরিক বাহিনীর হাতে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ১০ গুণ বেশি বলে মনে করা হয়। বিবিসির বার্মিজ বিভাগের প্রধান সোয়ে উয়িন তান বলেন, যখন শুরু হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল সামরিক বাহিনীবিরোধী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে পারবে, কিন্তু সাম্প্রতিক মাস ও সপ্তাহগুলোতে স্রোত কিছুটা হলেও উলটে গেছে। বিরোধীদের দুর্বলতা হলো তাদের বিমান শক্তি নেই, আর জান্তার তা আছে।

অভ্যুত্থানের পর আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাও মিয়ানমারের শাসকদের স্নাইপার রাইফেল, বিমান বিধ্বংসী কামান, মিসাইল লঞ্চার, গ্রেনেড, বোমা ও স্থলমাইনের মতো বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বহু ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকলেও তারা কখনোই অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করেনি, বরং তাদের অস্ত্র কারখানার সংখ্যা আরো বেড়েছে। ১৯৮৮ সালে ছয়টি অস্ত্র কারখানা থাকলেও তা বেড়ে এখন ২৫টির মতো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Myanmar : অস্ত্র তৈরিতে ১৩ দেশের সহায়তা পাচ্ছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী

আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

‘সর্বশেষ অভ্যুত্থানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবেই সামরিক বাহিনীর হাতে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ১০ গুণ বেশি বলে মনে করা হয়’

 

অনলাইন ডেস্ক

১৩টি দেশের সহায়তা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অস্ত্র তৈরি করছে। আর সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, সামরিক বাহিনীর বিরোধীতাকারী মানুষের বিরুদ্ধে। সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ১৩টি দেশের প্রতিষ্ঠান।

পশ্চিমাদের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, ভারত ও জাপানের কোম্পানিগুলোও এ তালিকায় থাকার তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে তৈরি এসব অস্ত্র সামরিক বাহিনীর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সহিংসতায় আচ্ছন্ন। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। অভ্যুত্থানবিরোধীরা প্রান্তীয় নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়ে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতেও জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে বলে বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দেশেই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করতে পারে, আর সেগুলো বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক বিশেষ প্রতিবেদক ইয়াংহি লি ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো রাষ্ট্র মিয়ানমারকে কখনো আক্রমণ করেনি আর মিয়ানমার অস্ত্র রপ্তানিও করে না। ১৯৫০ সাল থেকেই তারা নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করে আসছে।

সর্বশেষ অভ্যুত্থানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবেই সামরিক বাহিনীর হাতে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ১০ গুণ বেশি বলে মনে করা হয়। বিবিসির বার্মিজ বিভাগের প্রধান সোয়ে উয়িন তান বলেন, যখন শুরু হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল সামরিক বাহিনীবিরোধী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে পারবে, কিন্তু সাম্প্রতিক মাস ও সপ্তাহগুলোতে স্রোত কিছুটা হলেও উলটে গেছে। বিরোধীদের দুর্বলতা হলো তাদের বিমান শক্তি নেই, আর জান্তার তা আছে।

অভ্যুত্থানের পর আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাও মিয়ানমারের শাসকদের স্নাইপার রাইফেল, বিমান বিধ্বংসী কামান, মিসাইল লঞ্চার, গ্রেনেড, বোমা ও স্থলমাইনের মতো বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বহু ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকলেও তারা কখনোই অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করেনি, বরং তাদের অস্ত্র কারখানার সংখ্যা আরো বেড়েছে। ১৯৮৮ সালে ছয়টি অস্ত্র কারখানা থাকলেও তা বেড়ে এখন ২৫টির মতো হয়েছে।